এবার ট্রেন যাবে বরিশাল: প্রধানমন্ত্রী

file
সমাজের কথা ডেস্ক॥ এবার দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভাগ বরিশালে রেললাইন স্থাপনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, পর্যটন অঞ্চল পটুয়াখলীর কুয়াকাটা এবং নতুন বন্দর পায়রা ও খুলনার মংলা বন্দর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে রেল যোগাযোগ স্থাপন করা হবে।
বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ১০ জেলায় ৫১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “সারা বাংলাদেশে আমরা রেল যোগাযোগ গড়ে তুলতে চাই। বরিশাল রেল দেখে নাই কখনও। ইনশাল্লাহ আমরা বরিশালেও রেললাইন নিয়ে যাব।
“কুয়াকাটা পর্যন্তও রেল যাবে। আর এখান থেকে মংলা পর্যন্ত যাবে। আমরা পায়রা বন্দর প্রতিষ্ঠা করতে পারব।”
এদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘সিগনালিং ব্যবস্থাসহ টঙ্গী-ভৈরববাজার ডাবল লাইন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এই ৮৪ কিলোমিটার ডাবল লাইন হওয়ায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ৩২০ কিলোমিটার রেললাইনের ২৪৯ কিলোমিটারই ডাবল লাইনের আওতায় এল।
উদ্বোধনের পর মতবিনিময়ের সময় ভৈরব প্রান্তে থাকা রেলমন্ত্রী মুজিবুল হককে বরিশাল বিভাগে রেল লাইন স্থাপনে ‘দ্রুত’ কাজ করতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “একসময় রেল মৃতপ্রায় হয়ে গিয়েছিল। যে কোনো কারণেই হোক বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরে রেলের সঙ্গে একেবারে বিমাতাসুলভ আচরণ করতো। এবং ধীরে ধীরে রেললাইনগুলি বন্ধ করার সেভাবে পদক্ষেপগুলিও নিয়েছিল।
“আমরা সরকারের আসার পর রেলকে গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ দেশের মানুষ অল্প খরচে চলাচল করতে ও মালামাল বহন করতে পারে। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেদিকে লক্ষ্য রেখেই ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি।”
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৫৩৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার চারটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করেন এবং গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ছয় হাজার পরিবারের মাঝে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধন করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সবচেয়ে প্রয়োজন যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুতের উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং মৌলিক অধিকারগুলো পূরণ করা।
“আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি মানুষের ঘরে আলো দেব। ইতোমধ্যেই ৭৬ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে।”
বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন সরকারপ্রধান বলেন, “ওই সময়ের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে, সেই মহাপরিকল্পনাও ইতোমধ্যে আমরা গ্রহণ করেছি এবং ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।”
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালী জেলায় পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে শেখ কামাল ও শেখ জামাল সেতুর উদ্বোধন করেন।
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে পর্যটন এলাকাটি ঘিরে নিজের স্বপ্নের কথাও বলেন শেখ হাসিনা।
এই ধরনের জায়গা পৃথিবীতে খুব কম আছে- মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমি বহু আগে কুয়াকাটা যাই এবং দেখার পর থেকে আমার খুব ইচ্ছা ছিল, এই জায়গাকে আরও উন্নত করব।”
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সিলেট অঞ্চলে ইস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (ইবিবিআইপি) এর আওতায় নবনির্মিত ১৬টি সেতু উদ্বোধন করেন।
তিনি বলেন, গত সাত বছরে তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় শুধু সড়ক বিভাগের জন্যই ৫৩৭টি সেতু নির্মিত হয়েছে। “এত বেশি সেতু মনে হয় আর কোনো সরকার করতে পারেনি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও যেন সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয় সে লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন স্থাপনার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন এবং জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন স্থাপনার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
ভিডিও কনফারেন্সের সময় উন্নয়ন কর্মকান্ডে স্থানীয়দের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, স্থানীয় সাংসদ, সিটি করপোরেশনের মেয়র ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় গণভবন ও বিভিন্ন জেলায় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার