শীর্ষ সন্ত্রাসী ম্যানসেলের নেতৃত্বে এমএম কলেজে বোমা হামলা ?

ham
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর সরকারি এমএম কলেজ শহীদ মিনারে একুশের প্রথম প্রহরে বোমা বর্ষণ ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী ম্যানসেলের নেতৃত্বে এঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন। আবার গণমাধ্যমকর্মীদের ক্যামেরাও সেটি ধরা পড়েচে। কিন্তু পুলিশের দায়ের করা পৃথক দু’টি মামলার একটিতে অজ্ঞাতনামা এবং অপরটিতে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, মহান মাতৃভাষা দিবসে একুশের প্রথম প্রহরে রাজনৈতিক, সামাজিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষেরা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান। শ্রদ্ধা নিবেদনের শুরুতেই শহরের রেলগেট এলাকার বিএনপি নেতা আলমাস হোসেনের ছেলে শীর্ষ সন্ত্রাসী ম্যানসেলের নেতৃত্বে কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাসের সৃষ্টি করে। এরপর তাদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও এসময় ১৮ রাউন্ড গুলি করে। তবে এতে কোন হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও শ্রদ্ধা জানাতে আসা হাজারো লোকজন জীবন বাঁচাতে আতংকে ছুটাছুটি করেন। এক পর্যায়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো এবং শহীদ মিনারে পুষ্পর্ঘ্য অপর্ণ করা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর পুলিশ সেখান থেকে কয়েকজন নীরিহ লোকজনদের আটক করেন। আটককৃতরা হলেন, ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার কচুয়াপোতা গ্রামের হাবিবুর রহমান মোল্যার ছেলে জাফর আহম্মেদ বিজয়, ডালভাঙ্গা গ্রামের গোরাই চাঁদ শেখের ছেলে আল মামুন শেখ আকাশ, মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার নাখোসা গ্রামের করিম বিশ্বাসের ছেলে মহিদুল বিশ্বাস ও যশোর বেনাপোলের কাগজপুকুর গ্রামের মৃত মোসলেম সরদারের ছেলে সুমন হোসেন।
মামলায় পুলিশ উল্লেখ করেছে, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহম্মেদ একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার সময় ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা একটি ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
কিন্তু ম্যানসেল যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী হলেও সে ওই সংসদ সদস্যের পোষ্য ক্যাডার হিসেবে বর্তমানে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, অস্ত্রসহ একাধিক মামলাও রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ম্যানসেল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা করে আসছিল। ইতিপূর্বে ডাকাতির চেষ্টাকালে গণপিটুতে নিহত হয় তার বাহিনীর আরেক ক্যাডার ডলার। ম্যানসেল বাহিনীর বর্তমান প্রধান সেনাপতি হিসেবে কাজ করছে নজু। ওই শহীদ মিনারে তাদের প্রত্যেকের কাছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা ছিল। তারাই সেখানে অস্ত্র উচিঁয়ে গুলি বর্ষণ করেছে। ফলে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে পুলিশ ব্যাপারে অজ্ঞাতনামা একটি এবং অপরটিতে নীরিহ চারজন ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এতে প্রত্যক্ষ্যদর্শীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে পুলিশের বিরুদ্ধেই নানা ধরনের সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের বিতর্কিত ভুমিকার কারণে প্রকৃত অপরাধীরা এঘটনা থেকে পার পেয়ে যেতে পারে। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছে প্রত্যক্ষ্যদর্শীসহ সচেতন সমাজ।

শেয়ার