হাসি ফুটেছে ‘বৃক্ষ মানবের’ মুখে

opa
সমাজের কথা ডেস্ক॥ অস্ত্রোপচারে এক হাত ভারমুক্ত হতেই হাসি ফুটেছে আবুল বাজনদারের মুখে, আর তা তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার স্বপ্ন দেখাচ্ছে পরিবারকে।
ত্বকে ভাইরাসের সংক্রমণে হাত-পায়ে গাছের শাখা-প্রশাখার মতো আঁচিল নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে একদিন আগেই অস্ত্রোপচার কক্ষে ঢোকেন ২৫ বছর বয়সী এই যুবক।
গণমাধ্যমে ‘বৃক্ষ মানব’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠা বাজনদারকে রোববারও পোস্ট অপারেটিভেই রেখেছিলেন চিকিৎসকরা। সেখানেই সন্ধ্যায় তাকে দেখতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
অস্ত্রোপচারের ধকল নিয়ে শুয়ে থাকলেও বাজনদারকে দেখা যায় বেশ হাসি-খুশি।
কেমন আছেন- জানতে চাইলেই চোখে-মুখে হাসি নিয়ে বলেন, “অনেক ভালো আছি। …আমার ডান হাতের সব শিকড় কেটে দিয়েছেন চিকিৎসকরা, একটুও শিকড় নাই।”

দুই হাত, দুই পা মিলিয়ে চারটি অংশের একটি অংশে শনিবার অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা। এতে তিন ঘণ্টা সময় লাগে।
“প্রথমে একটু ভয় পেয়ে যাই। কিন্তু পরে ভয় কেটে যায়,” বলেন ‘বৃক্ষ মানব’।
পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন বাজনদারের বৃদ্ধ মা আমিনা, স্ত্রী হালিমা এবং তার কোলে ছিল তার তিন বছর বয়সী মেয়ে। তারাও ভীষণ খুশি।
“সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে, তা ভাবতেই তৃপ্তিতে মনটা ভরে যায়,” বলেন হালিমা।
অস্ত্রোপচারের নেতৃত্বে থাকা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আবুল কালাম বলেন, “আবুল ভালো আছেন। সবকিছু খেতে পারছেন। অপারেশনের পর যে সমস্যাগুলো সাধারণত দেখা যায়, আবুলের ক্ষেত্রে তা দেখা যাচ্ছে না।”
তিন সপ্তাহ পর বাজনদারের বাম হাতে অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা চিকিৎসকদের।
ছেঁটে ফেলার পর আঁচিল কি আবার গজাতে পারে- জানতে চাইলে ডা. কালাম বলেন, “সে সম্ভাবনা থেকেই যায়।”
কয়টি অস্ত্রোপচার লাগতে পারে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়ার এই ধরনের রোগীর ১৩টি লেগেছিল। তবে বাজনদারের ক্ষেত্রে অতটি নাও লাগতে পারে।
গত ৩০ জানুয়ারি থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন বাজনদার। বহুল আলোচিত বিরল অসুখের এই রোগীর চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকার নিয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বাজনদারকে দেখার পর তার স্ত্রীর হাতে কিছু টাকা তুলে দেন।
পরে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “সে ভালো আছে। আমার সঙ্গে হেসে সে কথা বলেছে।”
প্রধানমন্ত্রীই তার খোঁজ-খবর নিতে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান।

শেয়ার