ভাষা শহীদদের প্রতি জাতির বিনম্র শ্রদ্ধা

sho copy
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ভাষা শহীদদের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা জানিয়েছে গোটা বাঙালি জাতি। যথাযথ মর্যাদায় শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি যশোরে এই দিবসে গ্রহণ করা হয়েছিলো নানা কর্মসূচি। একুশের প্রথম প্রহরে সরকারি এম এম কলেজস্থ জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে রফিক, শফিক, জব্বারদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। শহীদদের স্মরণে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয় জেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজসহ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। আয়োজন করা হয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। আর শহীদ দিবসের বিকালে শহরের টাউন হল মাঠে সরকারি উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে চলমান মিছিলে পাকবাহিনীর গুলিতে শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারদের স্মরণ করতে এম এম কলেজ ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার রঙ তুলির আঁচড়ে বর্ণমালার অক্ষর দিয়ে সাজানো হয়। দিবসের প্রথম প্রহরেই শহীদের ফুলেল শ্রদ্ধা জানাতে নারী শিশুসহ হাজারো মানুষের ঢল নামে। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে ছাড়াও অনেকে ব্যক্তিগতভাবে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। এম এম কলেজের দক্ষিণ গেট থেকে ভাষাপ্রেমীদের দীর্ঘ লাইন জিলা স্কুল মোড় পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ১২টা ১ মিনিটে যশোর কেন্দ্রীয় শহীদ বেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। পরে জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, এম এম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মিজানুর রহমান শহীদ মিনারে ফুল দেন। ওই রাতেই শহীদ বেদিতে ফুল দেয় যশোর জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা ছাত্রলীগ, জেলা বিএনপি, জেলা ছাত্রদল, জেলা জাতীয় পার্টি, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ যশোর জেলা শাখা, জেলা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তবে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের এক পর্যায়ে এম এম কলেজ ক্যাম্পাসে ককটেল বিষ্ফোরণের মতো একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে রাতে শহীদ মিনারে প্রবেশের গেট বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। রাতে ফুল না দিয়ে ফিরে আসলেও সকালে আবার ভাষাপ্রেমী যশোরের মানুষ শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে যান। দাঁড়িয়ে যান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রবেশের লাইনে।
বিকাল চারটায় শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে যশোর টাউন হল ময়দানে রওশন আলী মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মজিদ, প্রবীণ আইনজীবী আব্দুস শহীদ লাল, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি হারুণ-অর-রশিদ, জাসদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা সমন্বয়ক হাচিনুর রহমান প্রমুখ।
এর আগে সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় কালেক্টরেট চত্ত্বরে নান্দনিক বাংলা হস্তাক্ষর লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে জেলা শিশু একাডেমি। সকাল সাড়ে ১০টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। একই সময় কালেক্টরেট চত্ত্বরে জেলা শিশু একাডেমির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় একুশের চেতনাভিত্তিক চিত্রাঙ্কন ও বাংলা কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। সন্ধ্যায় টাউন হল ময়দান ও কালেক্টরেট চত্ত্বরে ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করে জেলা তথ্য অফিস।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়। সকালে ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সাথে নিয়ে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার । পরে যবিপ্রবি’র বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা এসোসিয়েশন, কর্মচারী সমিতির পক্ষ থেকে আলাদা আলাদাভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের পক্ষ থেকে প্রভোস্ট ড. ইকবাল কবীর জাহিদের নেতৃত্বে ছাত্ররা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন । সকাল ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যালারিতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর শেখ আবুল হোসেন, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন ড. বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. জিয়াউল আমিন, ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন ড. সাইবুর রহমান মোল্যা, জীব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন ড. ইকবল কবীর জাহিদ, রেজিস্ট্রার ইঞ্জিনিয়ার আহসান হাবীব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মীর মোশাররফ হোসেন।
যশোর মেডিকেল কলেজে শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে হাসপাতালের ৩য় তলায় ক্লাসরুমে অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আবু হেনা মোহম্মাদ মাহাবুব উল মওলা চৌধুরির সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর বিএমএ’র সভাপতি ও যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনু। এসময় উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদার, সহকারী অধ্যাপক ডা. রবিউল ইসলাম প্রমুখ।
বিকাল চারটায় জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার দলীয় কার্যালয়ে সংগঠনটির যশোরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাগপার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নিজামদ্দিন অমিত। এর আগে সকালে সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহীদের স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দেন।
২১ ফেব্রুয়ারির দিন শংকরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নব নির্বাচিত ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা।

শেয়ার