চাঁদের বুকে এ কীসের ‘সুর’?

moon
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ৪৭ বছর আগে মানুষ চাঁদের বুকে নামার ঠিক আগে উপগ্রহটি প্রদক্ষিণের সময় রহস্যময় ও ব্যাখ্যাতীত ‘সুর’ শুনতে পেয়েছিলেন এপোলো-১০ এর তিন নভোচারী।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার কিছু ‘গোপনীয়’ নথি প্রকাশ করলে এই বিষয়টি প্রকাশ্য হয়।
২০০৮ সালে প্রকাশিত ওই নথি নিয়ে নভোচারীদের ওই কথোপকথন সম্প্রতি সায়েন্স চ্যানেলের একটি অনুষ্ঠানে শোনানো হয় বলে যুক্তরাজ্যের ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
চাঁদের বুকে নামা মহাকাশ যান এপোলো-১১’র যাত্রার দুই মাস আগে ১৯৬৯ সালে চাঁদ প্রদক্ষিণ করতে গিয়ে নভোচারীরা ওই ঘটনার মুখোমুখি হন বলে নথিতে বলা হয়েছে।
ওই যাত্রায় এপোলো-১০ এর তিন নভোচারী ছিলেন- টমাস পি স্ট্যাফোর্ড, জন ডব্লিউ ইয়ং ও ইউজেন এ কারনান।
এপোলো-১০ এর তিন নভোচারী এপোলো-১০ এর তিন নভোচারী
নথির সঙ্গে নভোচারীদের কথোপকথনের একটি ‘রেকর্ডিং’ও প্রকাশ করে নাসা।
সেখানে ‘অপার্থিব চিৎকার ও গোলমাল’ শোনার পর নভোচারীদের বিস্ময় এবং পৃথিবীতে ফিরে ঘটনাটি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে কি না, তা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ রয়েছে বলে ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এক নভোচারী অন্যজনকে বলছিলেন- “তুমি শুনেছ? শিসের মতো এ সুর? হুউউউ!”
প্রত্যুত্তরে অন্য নভোচারী শব্দটি শোনার কথা স্বীকার করে একে ‘মহাশূন্য ধরনের সুর’ বলে অভিহিত করে বলেন, “এই সুর বেশ অদ্ভুত।”
পৃথিবীর বেতার তরঙ্গসীমার বাইরে চাঁদের দূরবর্তী অংশ প্রদক্ষিণের সময় ‘প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে’ নভোচারীরা তাদের হেডসেটে ওই ‘অদ্ভুত সুর’ শোনেন বলে নাসার ‘ডিক্লাসিফাইড’ ওই নথিতে বলা হয়েছে।
গত রোববার সায়েন্স চ্যানেলের ‘নাসাস আনএক্সপ্লেইনড ফাইলস’ শিরোনামের অনুষ্ঠানে এপোলো-১৫’র নভোচারী আল ওর্ডেন বলেন, “ধারণকরা অংশটুকু যদি চাঁদের ওই অংশেই হয়, তাহলে যুক্তি অনুযায়ী, সেখানে অবশ্যই শব্দ করার মতো কিছু না কিছু আছে।”
অদ্ভুত এই সুরের পেছনে চৌম্বক ক্ষেত্র কিংবা বেতার তরঙ্গের সঙ্গে চাঁদের বায়ুমণ্ডলের প্রতিক্রিয়ার প্রভাবের কথা বলা হলেও অনুষ্ঠানে থাকা বিশেষজ্ঞরা তা খারিজ করে দেন।
তারা বলেন, চাঁদে কোনো চৌম্বকক্ষেত্র নেই। আর উপগ্রহটির বায়ুমন্ডলের কারণে এমন ঘটনা ঘটারও সম্ভাবনা নেই।
ওই ঘটনার চার বছর পর বিখ্যাত ব্যান্ড পিংক ফ্লয়েডের ‘ডার্ক সাইড অন দ্য মুন’ নামে একটি অ্যালবাম প্রকাশ করে।
চাঁদের ‘ডার্ক সাইডে’ শোনা ওই অদ্ভুত সুরের সঙ্গে পিংক ফ্লয়েডের অ্যালবামটির সাদৃশ্য নিয়ে ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা হলেও এই সুরের সৃষ্টি আসলে কীসে, তা এখনও রহস্য হয়েই রয়েছে।

শেয়ার