যশোরে আমেনা ক্লিনিক কর্মচারী রাকিব হত্যাকান্ড॥ মালিকের নির্দেশেই খুন, চার্জশিট প্রস্তুত করছে সিআইডি

CID logoci
লাবুয়াল হক রিপন॥
কর্মস্থল মুড়লীর আমেনা ক্লিনিকে অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয় কর্মচারী রাকিব রায়হান ফজলেকে। ক্লিনিক মালিক নাজিম উদ্দিনের দুই ভাড়াটিয়া খুনি তাকে হত্যা করে। পুলিশকে ক্লিনিকের অনৈতিক কর্মকান্ডের খবর সরবরাহ করায় তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ডের সাড়ে পাঁচ মাস পর সিআইডি পুলিশ হত্যাকারীদের মোবাইল কল লিস্ট থেকে এই ক্লু উদ্ঘাটন করে। দ্রুতই এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হচ্ছে।
সিআইডি সূত্রে জানা যায়, প্রথম দিকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে ছিলো কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। মাস দুয়েক আগে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডির এসআই তৌহিদুল ইসলামকে। তদন্তকারী কর্মকর্তা সন্দেহভাজনদের কল লিস্ট দেখে ক্লিনিক মালিক নাজিম উদ্দিনের সম্পৃক্ততা পান। ফোনালাপের লিস্টের সূত্র ধরে আটক করা হয় আকাশ ও রচি নামে দুই যুবককে। রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম উদ্দিন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সিআইডি পুলিশ আশা করছে হত্যাকান্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে ফেলেছেন তারা।
জানা যায়, গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শহরতলীর নওদা গ্রাম থেকে রাকিবের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অভয়নগর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের ফিরোজ মোল্যার ছেলে রাকিব রায়হান ফজলে যশোর শহরতলীর মুড়লী মোড়ের মুন্তাজ মার্কেটের আমেনা ক্লিনিকের কর্মচারী ছিলেন। ক্লিনিকে বিভিন্নস্থান থেকে রোগী সেজে আসা নারীদের দিয়ে প্রতিনিয়ত অনৈতিক কর্মকান্ড চালানো হতো। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর ওই ক্লিনিকে রোগী সেজে আসা এক নারীকে দিয়ে অনৈতিক কাজ করান মালিক নাজিম উদ্দিন। বিষয়টি জানতে পেরে একজন পুলিশ অফিসার ওই নারীসহ মালিক নাজিম উদ্দিনকে আটক করে। এসময় ক্লিনিক কর্মচারী রাকিব রায়হান ফজলে পুলিশের সাথে দেনদরবার করে মালিক নাজিম উদ্দিন এবং সেই নারীকে ছাড়িয়ে নেন। পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে মালিক রাকিবকে দায়ি করেন। এক পর্যায়ে তাকে খুন করার জন্য নাজিম উদ্দিন পালবাড়ি এলাকার রচি ও আকাশকে ভাড়া করেন। ঘটনার দিন ওই সন্ত্রাসীরা রাকিবকে তার বোনের শহরতলীর পাগলাদাহ থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির এসআই তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ফজলেকে হত্যার প্রকৃত কারণ আমরা উদ্ঘাটন করেছি। দ্রুতই মামলার চার্র্জশিট দেওয়া হবে।

শেয়ার