ছাগলের ভূত!

vhoot
সমাজের কথা ডেস্ক॥ শয়তান সদৃশ একটি ছাগলের ভূত তাড়া করায় নিজের বাড়িই ছেড়ে দিয়েছেন এক নারী! আতঙ্কিত ওই নারী বাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভেনেসা মিশেলের বাড়িটি ‘যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে ভৌতিক’ বাড়ি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বেশ কয়েকবার অদ্ভুত সব ঘটনার কারণে ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়ায় মিশেল বাড়িটি বিক্রির চেষ্টা শুরু করলে এসব ঘটনার কথা জানাজানি হয়। ৪৩ বছর বয়স্ক ওই নারীর দাবি, তার গর্ভাবস্থার শেষ দিকে তাকে কেউ ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল, চড় মেরেছিল এবং বাড়ির মেঝেজুড়ে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে থাকতেও দেখেছেন তিনি।
মিরর জানিয়েছে, বাড়িটি এসেক্সের ওসিথে অবস্থিত। বাড়িটির নাম ‘দ্য কেইজ’, যার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় ‘খাঁচা’। মধ্যযুগীয় বাড়িটি একসময় কারাগার হিসেবে ব্যবহার করা হত। বলা হয়, ইংল্যান্ডের অন্যতম চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার বিচারের অংশ এ বাড়িটিতে ‘ডাইনি’ অভিযোগে আট নারীকে হত্যা করা হয়েছিল। বাড়িটির এই অতীত ইতিহাস সত্ত্বেও মিশেল ১১ বছর বাড়িটিতে থেকেছেন। কিন্তু সম্প্রতি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ভিডিও ফুটেজে তিনি একটি ‘ভৌতিক ছাগলের মুখ’ দেখেছেন। বিশালাকার একটি ছায়া তিনি নিজের ছেলের দোলনার চারপাশে ঘুরতে দেখেন। এরপরই বাড়িটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে বাড়িটি অভিশপ্ত। অনেক বছর বাড়িটিতে থেকেছি আমি। কিন্তু আমার আর আমার ছেলের দোলনার মাঝখানে লম্বা কালো ছায়াটিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কেঁপে উঠেছিলাম আমি… এখানে কিছু একটা খারাপ তো আছেই, শয়তানের মতো কিছু, যাই হোক না কেন- সেটাই অন্যান্য আত্মাকে ভেতরে আটকে রেখেছে।’ মিশেল আরো বলেন, ‘যা ভাবতেও পারি না আমি, তেমনই কিছু দেখেছি আমি। গর্ভাবস্থায় আমাকে ধাক্কা দেওয়া থেকে শুরু করে পেছন থেকে চড়-থাপ্পড় খেতে হয়েছে… বাড়িটি কেনার সময় এখানকার অস্বাভাবিক এসব ঘটনা সম্পর্কে আমাকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি এবং আমার মনে হয় যে বাড়িটিকে সাহায্য করার জন্যই কেউ আমাকে এখানে টেনে এনেছে।’ তিনি বলেন, ‘বাড়িটি আমি কেনার আগ পর্যন্ত এটাতে সবসময় বিক্রির বিজ্ঞাপন ঝুলত। বাড়িটি সুন্দর, চমৎকার একটি গ্রামের খুব ভালো জায়গায় এটি অবস্থিত। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে কমবেশি মানুষজনকে ভয় দেখিয়েই চলেছে বাড়িটি।’ কয়েকশ’ বছর আগে এক ব্যক্তি বাড়িটি দেড়শ’ পাউন্ডে কেনার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে ৫০ পাউন্ড কম দামে বিক্রি করে দিয়েছিলেন বলেও জানান মিশেল। মিশেলের দাবি, অশুভ শক্তি থেকে মুক্তি পেতেই ওই ব্যক্তি বাড়িটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তিনি জানান, বাড়ির বর্তমান পরিস্থিতি দিনে দিনে আরো খারাপ হয়ে উঠেছে। বাড়ির ভেতরে সারাক্ষণই লোকজন অত্যাচারিত আত্মা থাকার লক্ষণ দেখতে পাচ্ছেন। মনোরোগবিশেষজ্ঞ, তদন্ত সংস্থা এবং ওঝাসহ ভূত তাড়াতে মিশেল অনেকের সাহায্য নিলেও তাতে লাভ হয়নি কিছুই।

শেয়ার