কালীগঞ্জে কলেজ ছাত্র লিটনকে হত্যাচেষ্টা

hotta chesta
দেবু মল্লিক॥
মেধা আর যোগ্যতাই কাল হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের লিটন কুমার বিশ্বাস নামে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শাস্ত্রের এক ছাত্রের। মাগুরার প্রফুল্ল সিংহ আয়ুর্বেদিক কলেজের ছাত্রাস্থায় তিনি শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে সফলতা দেখানোয় প্রতিপক্ষ আরেক ছাত্র শেখর সরকার তাকে একাধিক বার মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছেন। সর্বশেষ ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে হত্যাচেষ্ঠা করে। গলায় ১২টি সেলাই দেওয়া লিটন কুমার মাগুরা ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঁচ দিন চিকিৎসা নিয়ে ১৪ ফেব্রয়ারি কালীগঞ্জ থানায় এ নিয়ে মামলা করেন। তবে সেই মামলার পাঁচ দিন পার হলেও এখনো কোন আসামিকে আটক করতে পারেনি থানা পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জের কুলফাডাঙ্গা গ্রামের সুশান্ত কুমার বিশ্বাসের ছেলে লিটন কুমার বিশ্বাস গত ৮ ফেব্রুয়ারি আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরির কাঁচামাল ক্রয় করতে কালীগঞ্জ বাজারে আসেন। এসময় একজন অসুস্থ্য রোগী দেখার কথা বলে শেখর সরকার তাকে কালীগঞ্জ ভূষণ স্কুল এলাকায় ডেকে নিয়ে যান। স্কুল এলাকা থেকে তাকে নিশ্চিন্তপুরের অরুপ সাহার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা শেখর সরকারসহ তিন যুবক লিটনকে জোর করে চেতনানাশক খাইয়ে দেন। এসময় লিটনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। মৃত ভেবে তাকে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের আড়পাড়া বাজারের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন পথচারিরা লিটন কুমারকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। স্বজনরা খবর পেয়ে তাকে নিয়ে আসেন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে। সেখানে তার গলায় ১২টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ১৪ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়। তবে এখন কোন আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুকুমার কুন্ডু জানান, প্রথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। আসামিদের আটকে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সফল না হলেও দ্রুতই আটক করা সম্ভব হবে।
লিটন কুমার বিশ্বাস জানান, তিনি মাগুরার শালিখা উপজেলার শেখর সরকারদের বাড়িতে থেকে আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করতেন। বর্তমানে তিনি নিজের বড়িতেই ওষুধ তৈরির চর্চা করেন। এজন্য শেখরদের ব্যবসায়ীক ক্ষতি হচ্ছে। তাই এর আগে একাধিকবার শেখর মোবাইল ফোনে তাকে হত্যার হুমকি দেন। আর সর্বশেষ ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে হত্যা চেষ্টা চালানো হয়েছে।

শেয়ার