বার্সেলোনার দুর্দান্ত জয়ে মাইলফলকে মেসি

mesi
সমাজের কথা ডেস্ক॥ বরাবরের মতোই আক্রমণত্রয়ীর দুর্দান্ত খেলায় স্পোর্তিং গিহনকে অনায়াসে হারিয়েছে বার্সেলোনা। জোড়া গোল করে তাতে সবচেয়ে বড় অবদান লা লিগার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৩০০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছানো লিওনেল মেসির। আর গোল করায় অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় এই ম্যাচেও দিয়েছেন লুইস সুয়ারেস।

ক্লাব বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ায় লা লিগার একটি ম্যাচ কম খেলা হয়েছিল বার্সেলোনার। স্পোতিংয়ের মাঠে ৩-১ গোলে ম্যাচটি জিতে শিরোপা লড়াইয়ে খানিকটা এগিয়ে গেল লুইস এনরিকের দল।
সোমবার ম্যাচের নবম মিনিটে প্রথম ভালো আক্রমণটা করেছিল স্পোর্তিং। প্রতি-আক্রমণে বল নিয়ে অনেকটা এগিয়ে হালিলোভিচ পাস দেন আলেক্স মেনেনদেসকে। তার শট দূরের পোস্টের একটু বাইরে দিয়ে যায়।
আর বার্সেলোনা প্রথম ভালো সুযোগটা পায় ২১তম মিনিটে। নেইমার দারুণভাবে বল বাড়িয়েছিলেন ডি-বক্সে। কাছ থেকে নেওয়া সুয়ারেসের শট দক্ষতার সঙ্গেই ফেরান গোলরক্ষক।
তবে ২৫তম মিনিটে মেসিকে রোখা যায়নি। বল নিয়ে আড়াআড়ি দৌড়ে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে জোরালো শটে বাঁ পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান বার্সেলোনার এই ম্যাচের অধিনায়ক। আর এর মাধ্যমে লা লিগার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৩০০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছান মেসি।
দুই মিনিটের মধ্যেই অবশ্য সমতা ফেরায় স্পোর্তিং। প্রতি-আক্রমণে মেনেনদেসের দুর্দান্ত নীচু ক্রসে শুয়ে পড়ে পা লাগিয়ে গোলরক্ষক ক্লাওদিও ব্রাভোকে ফাঁকি দেন কার্লোস কাস্ত্রো।
বার্সার আবারও এগিয়ে যেতে সময় লাগেনি। ৩১তম মিনিটে ডি-বক্সে সুয়ারেসকে বল বাড়িয়েছিলেন মেসি। এক ডিফেন্ডারের সঙ্গে লড়াই করে বল দখলে রেখে তা ফেরত পাঠাতেই বাঁ পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। এটা নিয়ে লা লিগায় মেসির গোল হলো ১৫টি।
দুই মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান বাড়ানোর চমৎকার সুযোগটা নষ্ট হয় বার্সেলোনার। সুয়ারেসের নীচু ক্রসে মেসির শট ঠেকান গোলরক্ষক। বল পেয়ে নেইমারের নেওয়া উঁচু মাপা শট ডান পোস্টে লেগে ফিরে।
কয়েক মিনিট পরই ডি-বক্সের ভেতর থেকে নীচু ক্রস দিয়েছিলেন নেইমার। বলের গতি বেশি থাকায় পা ছোঁয়াতে পারেননি মেসি।
প্রথমার্ধে বলের ৮০ শতাংশ দখলে রাখা বার্সেলোনা দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই বল দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায়। গোল হজম করা ঠেকাতে বেশিরভাগ সময়ই নিজেদের অর্ধে থাকে স্বাগতিক খেলোয়াড়রা। এরই মধ্যে ৫৫তম মিনিটে আসে দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ভালো সুযোগটি। কিন্তু মেসির উঁচু করে বাড়ানো বল এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে ঠিক মতো মারতে পারেননি সুয়ারেস। নেইমারের বাইসাইকেল কিকেও বল লক্ষ্যে থাকেনি।
৬২তম মিনিটে পেনাল্টি থেকেও ব্যবধান বাড়াতে পারেননি সুয়ারেস। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। নেইমারকে গোলরক্ষক ফেলে দেওয়ায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন রেফারি। তবে রিপ্লেতে দেখা গেছে, মাটিতে পরার জন্য যেন তৈরি হয়েই ছিলেন ব্রাজিল অধিনায়ক। একটু দূর থেকে রেফারির তা ভালোমতো দেখার উপায়ও ছিল না।
পাঁচ মিনিট পরই দুর্দান্ত এক গোল করে হতাশা কিছুটা ভোলেন সুয়ারেস। ডি-বক্সের ডান প্রান্তে বল পেয়ে ঘিরে থাকা ডিফেন্ডারদের মাঝ দিয়েই বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে গোল করেন উরুগুয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার। এ মুহূর্তে বিশ্বের সেরা নাম্বার নাইনের লা লিগায় এ মৌসুমে গোল হলো সর্বোচ্চ ২৪টি। ২১টি গোল নিয়ে গোলদাতাদের তালিকায় এর পরেই আছেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ফরোয়ার্ড রোনালদো।
৭১তম মিনিটে মেসির বাড়ানো বল পেয়ে গোলে শট না নিয়ে সুয়ারেসকে বাড়াতে গিয়ে সুযোগ নষ্ট করেন ফাঁকায় দাড়িয়ে থাকা আর্দা তুরান। পরের মিনিটে নেইমারের জোরালো শট কোনোমতে ঠেকান গোলরক্ষক। শেঁষ বাশি বাজার আগে আর গোল হজম করতে হয়নি স্বাগতিকদের।

শেয়ার