পাটকেলঘাটায় বিয়ের বাস উল্টে ঝরে গেল ৩ প্রাণ॥ ১০ বরযাত্রী হাসপাতালে

road accedentroad accedent
সাতক্ষীরা/পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি॥ সাতক্ষীরায় বর যাত্রিবাহী বাস উল্টে খাদে পড়ে এক মোটরসাইকেল আরোহী ও বাদক দলের দুই সদস্যসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মির্জাপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক দূর্ঘটনা ঘটে। এঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে আরও ১০ বরযাত্রী। নিহতরা হলেন, সাতক্ষীরা শহরের পারকুখরালী এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে মোটরসাইকেল চালক নাহিদ ইসলাম (২৮) এবং বরযাত্রী বাসের বাদক দলের সদস্য আশাশুনি উপজেলার বেউলা গ্রামের মৃত কেষ্ট দাসের ছেলে সম্ভু দাস (৪২) ও একই গ্রামের পুটে দাসের ছেলে শান্তি দাস (৪৫)। ঘটনার পর স্থানীয়রা হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় ঘটনাস্থলে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছিল।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মহেশ্বরকাটি থেকে একটি বর যাত্রিবাহী বাস মংলায় যাচ্ছিল। প্রতিমধ্যে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে পাটকেলঘাটা থানার খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মির্জাপুর এলাকায় পৌঁছালে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে খাদে পড়ে। এতে মোটরসাইকেল চালক নাহিদ ইসলাম ও বাস চাপা পড়ে বরযাত্রী বাসের বাদক দলের সদস্য সম্ভু দাস ও শান্তি দাস ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এঘটনায় বর আশাশুনি উপজেলার মহেশ্বরকাটি গ্রামের সুমন মন্ডল (২৬), বর যাত্রী জয়ন্তি মন্ডল (৩২) শংকরী রানী (২২), জয় পদ মন্ডল (৩৩), তৌফিক (২৯), সুজিত মন্ডল (৩৫) ও চম্পা রানী মন্ডলসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও জানান, নিহতদের লাশ পুলিশ উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করেছে। আহতদের সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কেশবপুরে বাড়িঘর ভাংচুর॥ খোলা
আকাশের নিচে একটি পরিবার //২
নিজস্ব প্রতিবেদক, কেশবপুর॥ যশোরের কেশবপুরে মাদারডাঙ্গা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষরা একটি পরিবারের বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করার পর গত ৮ দিন ধরে পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ বাবুলাল দাস বাদি হয়ে ৩ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করার পর পুলিশ প্রধান আসামি মুকুন্দ দাসকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। বর্তমান সে জামিনে মুক্ত হয়ে ওই ভিটা থেকে পরিবারটিকে উচ্ছেদ করতে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের মাদারডাঙ্গা গ্রামের হৃদয় কাšিত দাস মৃত্যুর আগের তার নামিয় ৪২ শতক জমির মধ্যে তিন ছেলে বাবুলাল দাসের নামে ২১ শতক, মুকুন্দ দাসের নামে সাড়ে ১০ শতক ও অনুপ দাসের নামে সাড়ে ১০ শতক জমি কবলা দলিল করে দেয়। বাবুলাল দাসের জমি মুকুন্দ দাস নিজের দাবি করে প্রায় সময় দখলের হুমকি দিত। এমনকি বাবুলাল দাসের দলিল জাল আখ্যা দিয়ে মুকুন্দ দাস আদালতে মামলা করলে এ মামলার রায়ও বাবুলাল দাসের পক্ষে যায়। এ বিরোধ চলাকালে বাবুলাল দাস অসুস্থ হয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যায়। এ সুযোগে ৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে মুকুন্দ দাস ও উজ্জ্বল দাসের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে বাবুল দাসের বাড়িতে প্রবেশ করে তার পুত্রবধু স্বরসতিকে জিম্মি করে ঘরবাড়ি আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক লুটপাট চালায়। এরপর থেকে পরিবারটির শেষ ঠিকানা হয় খোলা আকাশের নিচে। এ ঘটনায় ১০ ফেব্রুয়ারী বাবুলাল দাস বাদি হয়ে মুকুন্দ দাস তার দু‘ছেলে উজ্জ্বল দাস ও উত্তম দাসকে আসামী করে থানায় একটি মামলা করে। যার নং-১১। পুলিশ ১১ ফেব্রুয়ারি অভিযান চালিয়ে এ মামলার প্রধান আসামি মুকুন্দ দাসকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। এদিকে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মুকুন্দ দাস আদালত থেকে মুক্ত হয়ে বসতভিটা থেকে বাবুলাল দাসকে পুনরায় তার ভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে ভয়ভীতি ও জীবননাশের হুমকি দেয়ায় নিরাপত্তা চেয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। বাবুলাল দাস অভিযোগ করে বলেন, তারা বসতঘর ভেঙ্গে দেয়ার পর পুনরায় ওই জমির ওপর বাঁশের বেড়া দিয়ে কোনো রকম মাথা গোজার ঠাই করে নিয়েছিলাম। তাও ভেঙ্গে দিয়েছে। এরপরও এলাকার একটি মহল এ ঘটনা মিমাংশার জন্য তার কাছে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিচ্ছে। ফলে তার পরিবার ভয়ে ভয়ে রাত্রি যাপন করছে। এ ব্যাপারে এ মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মনজুরুল ইসলাম মাসুদ বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারটির পক্ষে থানায় মামলা নেয়া হয়। প্রতিপক্ষরা শুধু বসতঘর নয়, পুঁজার ঘরও ভাঙচুর করে ২ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেছে।

শেয়ার