যশোরে ডাকাত লিয়াকত হত্যাকাণ্ড॥ দ্বিতীয় স্ত্রীসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে সিআইডির চার্জশিট

mamlamamla
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে ডাকাত লিয়াকত হত্যা মামলার চার্জশিট দিয়েছে সিআইডি পুলিশ। নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রীসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত এবং একজনকে অব্যাহতি চেয়ে সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হারুন অর রশিদ আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন।
অভিযুক্তরা হলেন, নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী (বর্তমান বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার জাড়িয়া গ্রামের আজমত আলীর স্ত্রী) শিলা বেগম, সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা উপজেলার অভয়তলা গ্রামের নূরুল আমিন শেখের ছেলে মিন্টু, যশোর শহরের বকচর হুশতলার হিরু মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া আবু বক্কার শেখের ছেলে কেরামত আলী, মৃত শেখ আব্দুল জলিলের ছেলে মফিজুল ইসলাম মফিজ এবং বাঘারপাড়া উপজেলার হাবুল্লা গ্রামের শহিদুল ইসলাম মোড়লের ছেলে তুহিন।
যশোর শহরের শংকরপুরের আলা সরদারের ছেলে জাহাঙ্গীর সরদারকে এমামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে চার্জশিটে আবেদন করা হয়েছে।
জানা গেছে, যশোর শহরের বকচর হুশতলা কবরস্থান রোডের আব্দুল মজিদের ছেলে লিয়াকত আলী একজন ‘ডাকাত’ ছিলেন। ডাকাতির একটি মামলায় তিনি এক যুগ কারাভোগ করার পর জেল থেকে মুক্তি পান। দীর্ঘ এক যুগ জেলে থেকে বেরিয়ে আবারো পূর্বের কর্মকা-ে ফিরে যান তিনি। এসময় ডাকাতিতে তার সঙ্গী হয় বকচর হুশতলার মিন্টু, কেরামত আলী, মফিজুল ইসলাম ও তুহিন। লিয়াকত আলীর স্ত্রী শিলা বেগমের সাথে তার অনুপস্থিতিতে মিন্টু অবৈধ সম্পর্ক গড়েন।
ডাকাতি করা সাড়ে তিন লাখ টাকা ভাগাভাগি নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি চরম আকারে পৌঁছে যায়। এক পর্যায়ে শিলা বেগমের সহায়তায় অন্যরা লিয়াকত আলীকে খুনের পরিকল্পনা করে। ২০১২ সালের ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হন লিয়াকত আলী। ওই দিন রাত ১২টার দিকে ডাকাতি করতে যাবে বলে তাকে জানানো হয়। নিজ বাড়ির মাত্র চার”শ গজ দূরে ইশমাম ফিলিং স্টেশনের পিছনে রেললাইনের উপর বৈঠকে বসেন। এক পর্যায়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে রেললাইনের পাশেই লাশ ফেলে রেখে যায়। পরদিন সকালে রেলওয়ে পুলিশ যশোর ক্যাম্পের সদস্যরা লিয়াকতের লাশ উদ্ধার করে।
এঘটনায় খুলনা জিআরপি থানায় প্রথমে অপমৃত্যু এবং পরে হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। আর খুলনা জিআপি থানা পুলিশের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একরাম আলী তদন্তের দায়িত্ব পান। এরপর যশোর সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হারুন অর রশিদ এ মামলাটি তদন্ত করে পাঁচজনকে অভিযুক্ত এবং একজনকে অব্যাহতি চেয়ে চার্জশিট দিয়েছেন।

শেয়ার