পেট্রাপোল বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে বেনাপোলে অচলাবস্থা

benapol
এমএ রহিম, বেনাপোল॥ দেশের বৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের ওপার ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ‘ইনটিগ্রেটেড চেকপোস্টের (সুসংহত চেকপোস্ট)’ ট্রাক পার্কিংয়ে চার্জ বৃদ্ধি ও দু’দেশের ট্রাক চালকদের উপর ভ্যাট ট্যাক্স আদায়সহ নানা সুযোগ সুবধা বঞ্চিতের প্রতিবাদে আমদানি-রপ্তানী কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ওপারের বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘটে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সুসংহত চেকপোষ্ট উদ্বোধনের পর থেকে বন্ধ রয়েছে আমদানি রফতানি বাণিজ্য। ফলে দীর্ঘ ৫দিন বন্ধের কবলে পড়ে বন্দর সড়কে হাজারও পন্যবাহি ট্রাকের দীর্ঘ লাইন পড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমদানি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান। শ্রমিকরা সড়কের উপর বসে তাস খেলে কাটাচ্ছেন অলস সময়।
গত ১২ ও ১৩ ফেব্রয়ারি দু’পার বন্দরে কয়েকটি পণ্যবাহি ট্রাক প্রবেশ করলেও সোমবার সকাল থেকে বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে পচনশীল পণ্যসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে সীমান্তের দুই পাশে আটকা পড়েছে হাজারও ট্রাক। বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট সভাপতি মফিজুর রহমান সজন ও পেট্রাপোল বন্দর কাস্টমস ক্লিয়ারিং এ্যান্ড ফরোয়াড়িং এজেন্ট স্টাফ ওয়েল ফেয়ার এ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী জানান, পেট্রাপোল বন্দর ‘ইনটিগ্রেটেড চেকপোস্ট’ (সু-সংহত চেকপোস্ট) চালুর পর আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ট্রাক পার্কিং চার্জ হঠাৎ করে কয়েকগুন বাড়ানো হয়েছে। ১০ চাকা ট্রাকের ট্রাক্স ১৬০ টাকার স্থলে ১২৭৫ টাকা-পাটজাত পণ্য বোঝাই ট্রাকে ১৭শ টাকার স্থলে ৪৭০০টাকা, রাইচ ব্যান্ড-১১৭৫টাকার স্থলে ৩২৭৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রতিদিনের জন্য ২০০ ও ৩০০ টাকা হারে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়িরা। ট্রাক শ্রমিক অপু হোসেন ও বাচ্ছু রহমান বলেন, ট্রাক শ্রমিকদের উপর ৫৬ টাকা ট্যাক্স ও ৯ টাকা ভ্যাটসহ ৬৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে। বাথরুম, ক্যান্টিন, থাকা খাওয়ার জায়গাসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে সেখানে। বাংলাদেশী কোন ট্রাক প্রতিবাদ করলে বিএসএফ দিয়ে চালান করে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে জানান শ্রমিকরা। ফলে শ্রমিক ও ব্যবসায়িরা এর প্রতিবাদে হরতাল করছে। দীর্ঘ ৫দিন ধরে পেট্টাপোল কাষ্টমসের সাথে আলোচনা করে কোন সুরাহা হয়নি। বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব মহাসিন মিলন বলেন, এসব অনিয়মের প্রতিবাদে সভা ডেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখা হয়। তখন ওপারের বন্দর কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছিলেন দু’দিনের মধ্যে সন্তোষজনক সমাধান দেয়ার কিন্তু বন্দর ব্যবহারকারিদের বেধে দেয়া সময় ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরের মধ্যে সমাধান না হওয়ায় লাগাতার ধর্মঘটের দেয় ভারতীয় ব্যাবসায়িরা। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার ধর্মঘট চলবে বলেও জানান ব্যবসায়িরা। পেট্রাপোল বন্দরের আমদানি রপ্তানিকারক রেজাউল ইসলাম জানান, বন্দর টার্মিনালে আগে পণ্যবাহী ৪ চাকা লরীর (ট্রাক) প্রতিদিনের পার্কিং চার্জ ছিল ৮০ রুপি। এখন তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৭০ রুপি। আর ১৬ চাকা লরীর (ট্রাক) পার্কিং চার্জ ১২০ রুপি থেকে ৫৬০ রুপি করা হয়েছে। ব্যবসায়িক কাজে ব্যবসায়ীদের প্রবেশের উপর নানা বিধি-নিষেধ ও নিয়ম-কানুন বেধে দেয়া হয়েছে। এতে একদিকে দ্রুত বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি হবে অন্যদিকে অতিরিক্ত খরচ পড়বে। ব্যবসায়িক কাজে ‘ইনটিগ্রেটেড চেকপোস্টে’ ঢুকতে ঘণ্টা প্রতি চার্জ নির্ধারণ করা হচ্ছে। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে খরচ বাড়লে তার প্রভাবও পড়বে ব্যবসায়ীদের উপর। বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, ওপারে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের কারণে এখনও পর্যন্ত কোনো পণ্যবাহি ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেনি। তবে বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাসের পর খালি ট্রাক মেইন গেট দিয়ে ভারত ফিরে যাচ্ছে। শুত্রবার দুপুরে ভারতের ল্যান্ডপোর্ট অথরিটির চেয়ারম্যান ওয়াইএস সেরওয়াত ও বাংলাশের স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চৌধুরী ফিতা কেটে ‘ইনটিগ্রেটেড চেকপোস্টের (সু-সংহত চেকপোস্ট) কার্যক্রম পরীক্ষামুলক চালু করেন। এদিকে আমদানি রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়া বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকা অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

শেয়ার