নওয়াপাড়ায় পল্লী বিদ্যুতের ভুলে গ্রাহকদের অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি, ঘটনা তদন্তে কমিটি

pollibiddut
অভয়নগর প্রতিনিধি॥ নওয়াপাড়া পল্লী বিদ্যুতের ভুলের কারণে গ্রাহকদের অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মটর, ওভেন, ফ্যান, লাইটসহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় গত সোমবার নওয়াপাড়ার শহরের একটি অংশে প্রায় ৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিল। এ সময় গ্রাহকরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়। ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, শিল্প শহর নওয়াপাড়ার প্রাণকেন্দ্রের ইনস্টিটিউট এলাকায় সকাল ৮টা থেকেই পল্লীবিদ্যুতের সংস্কারের কাজ চলছিল। কর্মরত ইলেকট্রিশিয়ানরা বিকাল ৪টায় সংস্কারের কাজ শেষ করে ২২০ ভোল্টে সংযোগ না দিয়ে ভুল করে ৪৪০ ভোল্টে সংযোগ দেয়ার সাথে সাথে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা কর্মরত ইলেকট্রিশিয়ানদের উপর চড়াও হন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পরে রাত ৯টার সময় পল্লীবিদ্যুতের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে সক্ষম হন। ইনস্টিটিউটের পাশের বাড়ির আনোয়ারুল ইসলাম বাচ্চু জানান, তার বাড়ির ১ টি এসি, ২টি ডিপ ফ্রিজ, ২ টি টিভি,১ টি ওভেন নষ্ট হয়ে গেছে। মাজাহারুল ইসলাম ইমরান জানান, তার বাড়ির একটি কালার টিভি নষ্ট হয়ে গেছে। নওয়াপাড়া বাজারের ডলফিন টেইলার্সের মালিক নাসির উদ্দিন মোল্যা বলেন, তার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ৮ টি টিউবলাইট ও ২ টি এনার্জি বাল্ব পুড়ে গেছে। নওয়াপাড়া ইনস্টিটিউটের তত্ত্বাবধায়ক গৌতম ঘোষ জানান, নওয়াপাড়া ইনস্টিটিউটের ১ টি কম্পিউটার, ২ টি মটর, ২ টি ফ্যান পুড়ে গেছে। এ ছাড়াও আবাসিক হোটেল শাকিল, শাহিন বুক হাউজ, গালিব ডিজিটাল স্টুডিও, টিভি ফ্রিজের দোকান ভিশন, নাজ সুজ, স¤্রাট সুজসহ শতাধিক আবাসিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের নওয়াপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম লিয়কত আলী গোলদার বলেন, কি কারণে সমস্যা হয়েছে তদন্ত না করে কিছুই বলা যাবে না।
এ ব্যাপারে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার সালাহ উদ্দিন বিতার বলেন, ঘটনাটি ঠিকাদার সহিদুল ইসলামের লোকজন ঘটিয়েছে। ঘটনার তদন্ত করতে ডিজিএম টেকনিক্যাল সাদেকুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যরা হলেন, রিটেনার প্রকৌশলী রফিকুল আলম ও সহকারী প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম। তাদেরকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করতে বলা হয়েছে।

শেয়ার