ইছামতি নদীতে বিএসএফ’র স্পিড বোটের পাখায় আট মাসে নিহত সাত বাংলাদেশী ॥ প্রতিকারে বেনাপোল সীমান্তবাসীর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন

isamoti
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ টহলের নামে যশোরের ইছামতি নদীর বাংলাদেশ অংশে অনুমতি ছাড়ায় প্রতিনিয়ত ভারতীয় বিএসএফ অবাধে ঢুকে পড়ছে। প্রতিদিন তিনটি ডাবল ইঞ্জিনের স্পিডবোট হাইস্প্রিডে চলাচল করায় নদীটির বাংলাদেশ অংশে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে নদীতে ‘গোসল করার’ সময় স্পিডবোটের পাখার আঘাতে নিহত হয়েছেন অন্তত সাতজন বাংলাদেশী। এনিয়ে বেনাপোলের পুটখালী সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষ আতংকিত হয়ে পড়েছেন। সমস্যার সমাধান চেয়ে ভুক্তভোগীরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন।
জানা যায়, সাত-আট মাস আগে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের পুটখালী এলাকার ইছামতী নদীতে ভারতীয় বিএসএস স্পিড বোটে টহল দেওয়া শুরু করে। প্রতিদিন প্রচ- গতিতে স্পিডবোটগুলো নদীতে গোসলরত মানুষের উপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে স্পিড বোটের পাখার আঘাতে পুটখালী গ্রামের মোসলেম গাইনের ছেলে কুরবান আলী, আজব আলীর ছেলে মধু, আজিজুল ইসলামের দুই ছেলে লিটন ও আকরাম, আলতাফ হোসেনের ছেলে রিপন, আব্দুল্লাহর ছেলে আকরাম, আব্দুল হানেফের ছেলে ইঞ্জিল নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কোরবান আলীর লাশ নদীর প্রচ- ¯্রােতে ভেসে গেছে। এছাড়া প্রচ- গতিতে স্পিড বোট চলাচল করায় নদীতে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। যাতে অনেক ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলিন হচ্ছে। এজন্য এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রতিকার চেয়ে আব্দুল কাদের নামে এক ব্যবসায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। গত ১১ ফেব্রুয়ারি আবেদনপত্রটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠনো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় বিএসএফ’র স্পেড বোটের কারণে নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে সফলি জমি। বিএসএফ সদস্যরা নদীতে গোসলরত নারীদের উত্যক্ত করে। এছাড়া নদীতে গোসল করা শিশুরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তাই এই সমস্যা সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

শেয়ার