দাম বাড়াতে তেলে লাগাম সৌদিসহ ৪ দেশের

Oil
সমাজের কথা ডেস্ক॥ তেলের অব্যাহত দরপতন ঠেকাতে জানুয়ারিতে যে উৎপাদন ছিল তার চেয়ে না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব, রাশিয়া, কাতার ও ভেনেজুয়েলা। তেল উৎপাদনকারী অন্য দেশগুলো এই প্রস্তাব না মানা পর্যন্ত এই চার দেশ উৎপাদন সীমাবদ্ধ রাখবে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় দেশগুলোর তেলমন্ত্রীদের এক বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেলের দাম ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার মুখে এ সিদ্ধান্ত এলো। ২০১৪ সালের জুনে তেলের সর্বোচ্চ দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার থেকে প্রায় ৭০ শতাংশ পড়েছে।
এই দরপতনের পেছনে অতিরিক্ত সরবরাহ, চাহিদায় মন্দা ও বিশ্ব অর্থনীতির পূর্বাভাস নিয়ে উদ্বেগকে দায়ী করা হচ্ছে।
৫ শতাংশের বেশি বাড়ার পর ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশের বেশি পড়ে ৩৩ দশমিক ৬১ ডলারে নামে, যেখানে ইউএস ক্রুড শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ২৯ দশমিক ৮৫ ডলারে ওঠেছে।
সৌদি আরবের তেলমন্ত্রী আলি আল-নাইমি বলেন, “তেলের উৎপাদন জানুয়ারি পর্যায়ে আটকে রাখলেও তা বাজারের জন্য পর্যাপ্ত। আমরা তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন চাই না, চাহিদা পূরণ করতে চাই। আমরা তেলের স্থিতিশীল দর চাই।”
মঙ্গলবারের বদ্ধ দুয়ার বৈঠকে বিশেষ কর সৌদি আরবসহ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মনোভাবে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের শেল তেলের উৎপাদনকারীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মুখে দামের চেয়ে বাজারের শেয়ারের বাড়ানোর দিকেই বেশি আগ্রহী ছিল।
উচ্চ দামের উৎপাদকদের বাজার থেকে হটানোর ওপেকের পরিকল্পনা ব্যাপকভাবে অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
সিটি ইনডেক্স অ্যানালিস্ট ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, এই উদ্যোগে বাজারে কিছুটা হলেও হতাশার ছাপ পড়বে। কারণ অনেকেই ভেবেছিল, তেলের উৎপাদন না আটকে কমানো হবে।
“স্বল্প মেয়াদে তেলের দাম কিছুটা চাপে থাকতে পারে। অধিকন্তু এটা একটা সঠিক পদক্ষেপ এবং অন্য বড় উৎপাদকরা এই পদক্ষেপ অনুসরণ করলে খুব সামান্য হলেও তেলের দামে বড় ধরনের পতন থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে।”
পেট্রোমেট্রিক্স স্ট্র্যাটেজিস্ট অলিভিয়ের জ্যাকব বলেন, “বাস্তবে ২০১৪ সালের পর তেলের সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় নেওয়া প্রথম সিদ্ধান্ত।এটা একটা বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন।”
তেলের দর স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে উৎপাদন আটকে রাখার ধারণার পক্ষে সমর্থন যোগাতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভেনেজুয়েলার তেলমন্ত্রী ইউলোজিও দেল পিনো বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোতে সফর করেছেন।
মঙ্গলবারের ঘোষণার পর দেল পিনো বলেন, বুধবার ইরান ও ইরাকের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করতে তিনি তেহরান সফর করবেন। গত মাসে পশ্চিমা দেশগুলো অবরোধ তুলে নেওয়ার পর ইরান প্রথমবারের মতো ইউরোপে তেল রপ্তানি শুরু করেছে। ইরান বলেছে, বাজারে নিজেদের অবস্থান পুনর্দখলের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তারা তেলের সরবরাহ বাড়াতে চায়।

শেয়ার