সিরিয়ায় স্কুল, হাসপাতালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৪

samo
সমাজের কথা ডেস্ক॥ সিরিয়ায় তুরস্ক সীমান্তবর্তী বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত আজাজ শহরের একটি শিশু হাসপাতাল, স্কুল ও অন্যান্য স্থানে নতুন করে বিমান হামলায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় অধিবাসী ও চিকিৎসা কর্মীরা।
তারা জানান, শহরের কেন্দ্রস্থলের হাসপাতাল এবং এর কাছেই অবস্থিত স্কুলে অন্তত ৫ টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর অভিযান থেকে পালিয়ে ওই স্কুলটিতেই আশ্রয় নিয়েছে শরণার্থীরা।
এলাকার আরেক অধিবাসী জানান, শহরটির দক্ষিণে আরেকটি শরণার্থী আশ্রয়শিবিরেও বিমান থেকে বোমা হামলা হয়েছে। রাশিয়ার জঙ্গিবিমান এ বোমাবর্ষণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শহরটিতে পালিয়ে এসেছে বিপুল সংখ্যক মানুষ। তুরস্ক সীমান্তে এ শহরটিই বিদ্রোহীদের সর্বশেষ ঘাঁটি। সিরিয়ার সেনাবাহিনী এবং মিলিশিয়াদের মধ্যে প্রচণ্ড লড়াইবিক্ষুব্ধ গ্রাম ও শহরগুলো থেকে পালিয়ে মানুষজন এ শহরটিতে জড়ো হয়েছে।
“হাসপাতালের শিশুরা চিৎকার করছে। আমরা তাদেরকে হাসপাতাল থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছি”, বলেন এক চিকিৎসাকর্মী। অন্তত ২ শিশু নিহত হয়েছে। এম্বুলেন্সে করে আহত আরও মানুষকে চিকিৎসার জন্য তুরস্কে নেওয়া হচ্ছে।
ফরাসি স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসা সংস্থা ‘মিতস সঁ ফঁতিয়া’ (এমএসএফ) এক বিবৃতিতে বলেছে, হাসপাতালে ৪ টি রকেট হামলার পর ৮ জন কর্মীকে খুঁজে পাচ্ছে না তারা।
হামলার জন্য আসলেই কারা দায়ী তা পরিস্কার না হলেও তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতগলু রাশিয়াকেই দায়ী করেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। রাশিয়া আজাজ শহরের বিভিন্ন ভবনের ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাশিয়া গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সমর্থনে দেশটিতে বিমান হামলা শুরু করে। সম্প্রতি বিদ্রোহী ঘাঁটি আেেল্প্পায় সিরিয়ার সেনাবাহিনীর লড়াইয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া।

গত সপ্তাহ থেকে তুরস্কও ওই এলাকায় কুর্দি ওয়াইপিজি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। আজাজ শহর লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে তারা।
ওদিকে, কুর্দি সরকার-বিরোধী বাহিনী পশ্চিম দিক থেকে শহরটিতে অগ্রসর হচ্ছে এবং সরকার বিরোধী বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়ছে। প্রধান সীমান্ত পরাপার এলাকা বাব আল সালাম থেকে শহরটির দূরত্ব মাত্র কয়েক কিলোমিটার। সিরিয়ার সেনাবাহিনী শহরটিতে অগ্রসর হচ্ছে দক্ষিণ দিক থেকে।
কুর্দি বাহিনী এবং সিরিয়ার সরকারি বাহিনী উভয়ই তুরস্ক সীমান্তবর্তী এ এলাকাটি বিদ্রোহীদের কাছ থেকে দখলে নিতে চাইছে।
বিদ্রোহী যোদ্ধাদের ওপর রাশিয়ার বিমান হামলার কারণে সিরিয়ার সেনারা সহজেই আলেপ্পো অভিমুখে অগ্রসর হতে পারছে। সিরিয়ার সেনারা শহরটি দখলে নিতে পারলে এটি হবে যুদ্ধে এ বাহিনীর সবচেয়ে বড় জয়।

শেয়ার