এটিএমে ‘এন্টি স্কিমিং ডিভাইস’ এক মাসের মধ্যে

ATM
সমাজের কথা ডেস্ক॥ গ্রাহকের তথ্য চুরি করে ক্লোন কার্ড বানিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনার পর প্রতিটি এটিএম বুথে জালিয়াতি প্রতিরোধের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করাসহ ছয় দফা নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জালিয়াতি রোধে ও লেনদেন ঝুঁকিমুক্ত করতে সব এটিএম বুথে এক মাসের মধ্যে ‘এন্টি স্কিমিং ও পিন শিল্ড ডিভাইস’ বসাতে হবে। নতুন কোনো বুথ খুলতে গেলেও তাতে অবশ্যই এসব ব্যবস্থা রাখতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ সোমবার এই সার্কুলারে বলেছে, আগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি বুথে বসানো ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি এন্টি স্কিমিং ডিভাইস বসানো হলে এই জালিয়াতি প্রতিরোধ করা যেত।

ছয় নির্দেশনা :
১. এখন থেকে নতুনভাবে স্থাপিত এটিএম বুথসমূহে বাধ্যতামূলকভাবে এন্টি স্কিমিং ও পিন শিল্ড ডিভাইস থাকতে হবে। আগে স্থাপিত বুথগুলোতে একমাসের মধ্যে এন্টি স্কিমিং ও পিন শিল্ড ডিভাইস স্থাপন করতে হবে।

২. প্রতিদিন এটিএম বুথে সংঘটিত লেনদেনসমূহের ভিডিও ফুটেজ যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং তাতে কোনো সন্দেহজনক বিষয় দৃষ্ট হলে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে করতে হবে।

৩. ইতোমধ্যে গ্রাহকের কার্ডের তথ্য ও পিন নম্বর কোনোক্রমে পাচার হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট সময়ে এটিএম বুথে ব্যবহৃত কার্ডসমূহ চিহ্নিত করে নিজ ব্যাংকের কার্ডসমূহের ক্ষেত্রে গ্রাহককে অবহিত করে কার্ডটি বাতিল এবং যথাশীঘ্র গ্রাহককে নতুন কার্ড প্রদান করতে হবে। গ্রাহক অন্য ব্যাংকের হলে সংশ্লিষ্ট কার্ড প্রদানকারী ব্যাংককে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করে একই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করতে হবে। উক্ত ভিডিও ফুটেজ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিতকরণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে হবে।

৪. নিয়মিতভাবে দৈবচয়নের (জধহফড়স ইধংরং) ভিত্তিতে ব্যাংক কতৃর্ক নিজস্ব এটিএম বুথসমূহ নিরীক্ষা করে মাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।

৫. এটিএম বুথগুলোতে নিয়োজিত গার্ডদের জাল/জালিয়াতি প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এছাড়া টুপি, সানগ্লাস পরিধানকারী ও ব্যাগ বহনকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে গার্ড সতর্ক থাকবে।

৬. এছাড়া এটিএম বুথগুলো থেকে টাকা উত্তোলনের সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহককে মোবাইলে এলার্ট প্রদানের মাধ্যমে লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য প্রেরণ করতে হবে।
গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার গ্রাহকের অজ্ঞাতসারে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডসস (ইবিএল) কয়েকটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে গ্রাহকদের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর এই জালিয়াতির বিষয়টি বেরিয়ে আসে।
তিনটি ব্যাংকের ছয়টি বুথে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসিয়ে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির পর কার্ড ক্লোন করে টাকা তুলে নেওয়ার তথ্য পাওয়ার কথা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তকারীরা।
এর মধ্যে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) কর্তৃপক্ষ থানায় মামলা করেছে, যাতে গ্রাহকের তথ্য চুরি করে ক্লোন কার্ড বানিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের সঙ্গে বিদেশি যোগসাজশ রয়েছে বলে সন্দেহের কথা জানানো হয়েছে।

শেয়ার