অস্ট্রেলিয়া না আসলেও কিছুই করার নেই আইসিসি’র!

spo

সমাজের কথা ডেস্ক॥ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ সফলভাবে শেষ করায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছে আইসিসি। তবে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার না আসা নিয়ে নিজেদের সীমাবদ্ধতা আবারও জানিয়ে দিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন।
যুব বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি, বাংলাদেশ সরকার, নিরাপত্তা এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানায় আইসিসি। প্রধান নির্বাহী রিচার্ডসনের সঙ্গে ছিলেন আইসিসি প্রেসিডেন্ট জহির আব্বাস ও বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান।
তিন জনের আনুষ্ঠানিক বক্তৃতায় ছিল নানা চ্যালেঞ্জকে জয় করে সফল আয়োজনের তৃপ্তি। সংবাদকর্মীদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বারবার ঘুরে ফিরে এলো নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার না আসা।
কোনো দেশ খেলতে না চাইলে আইসিসির সীমাবদ্ধতার কথা আরেকবার তুলে ধরলেন প্রধান নির্বাহী রিচার্ডসন।
“এটা মূলত চুক্তিগত ব্যাপার। এটার কারণে কোনো পক্ষের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কিনা, সেটা এখনও খতিয়ে দেখার ব্যাপার। আরেকটা ব্যাপার হলো, আমরা কোনো দেশকে অংশ নিতে জোর করতে পারি না। যেটা আগেই বললাম, এখানে চুক্তিভঙ্গের ঝুঁকি থাকতে পারে। কিন্তু সিদ্ধান্তটি তাদেরই।”
আইসিসি ফিফার মত শক্ত হতে পারে কিনা, অংশগ্রহণে বাধ্য করতে না পারলে অন্তত জরিমানার বিধান করতে পারে কিনা, এসব প্রসঙ্গেরও সরাসরি কোনো উত্তর দিলেন না প্রধান নির্বাহী।
“একটি সদস্য দেশ যে কোনোভাবে টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতে পারে না, সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক হতে হবে। এখন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক কিনা, সেই প্রশ্নের উত্তর আগেই দেওয়া হয়েছে।

ঘুরে ফিরে তবু প্রশ্ন হতেই থাকে এই প্রসঙ্গে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান সেটি এড়িয়ে গিয়ে তাকাতে চাইলেন সামনে।
“অস্ট্রেলিয়া নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরও টুর্নামেন্ট চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এতেই আমরা সন্তুষ্ট। ফলাফলই বলে দিচ্ছে আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। এখন আমরা ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে। কোনো সন্দেহ নেই সেখানেও নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ থাকবে। এই টুর্নামেন্ট থেকে আমরা অনেক শিখেছি।”
এবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আরেকটি আলোচিত ইস্যু ছিল বয়স। নেপাল অধিনায়ক রাজু রিজালের সত্যিকারের বয়স নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন ও বিতর্ক। আইসিসিরি বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলোতে এই বিতর্ক সঙ্গী বরাবরই। বিশেষ করে উপমহাদেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে। জন্ম সনদ ও কর্তৃপক্ষের সনদ দিয়েই বয়সের ছাড়পত্র পায় ক্রিকেটাররা। যেখানে বয়স লুকানোর সুযোগ থাকে অনেক।
এই প্রসঙ্গেও আইসিসি প্রধান নির্বাহীর উত্তর অবাক করল অনেককেই। বয়স নির্ধারণের গ্রহণযোগ্য বৈজ্ঞানিক পথ নাকি এখনও বের করা যায় নি!
“অতীতেও অনেক বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে এটি ছিল বেশ জটিল ইস্যু। সমস্যাটা হলো, মেডিকেল বিশেষজ্ঞরাও বলেন, গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে সত্যিকারের বয়স যাচাই করার ক্ষেত্রে খুব সামান্যই করার আছে! এজন্যই আমরা প্রাপ্য ডকুমেন্ট ও ক্রিকেটারদের সততা ও মূল্যবোধের ওপর ভীষণভাবে নির্ভর করি। ভবিষ্যতে যদি নিখুঁতভাবে বয়স যাচাইয়ের কোনো গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি পাওয়া যায়, আমরা অবশ্যই গ্রহণ করব।”

শেয়ার