প্রতিপক্ষের উপর হামলা করতে সন্ত্রাসী জড়ো করছে বুনো আসাদ॥ আতংকিত বেজপাড়াবাসীর পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা

ovijog
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং বাহিনী প্রধান বুনো আসাদ প্রতিপক্ষের উপর প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বাইরে থেকে অস্ত্র ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে বোমা তৈরির কাজ করছে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে বোমা বানাতে গিয়ে তার বাহিনীর সদস্য কোরবানের হাত উড়ে গেছে। তারপরও তার অপতৎপরতা থেমে নেই। যেকোনো সময় বেজপাড়ায় আসাদ বাহিনী হামলা ও সংঘর্ষে জড়ানো পারে বলে এলাকাবাসী আশংকা করছেন।
জানা গেছে, গত ২৪ জানুয়ারি রাতে ওই এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় বুরো আসাদের বড় ভাই মঈন জখম হন। এ ঘটনায় মঈন এলাকার ৬ জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।
সূত্র জানিয়েছে, বেজপাড়া মেইন রোড এলাকায় সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করে সন্ত্রাসী আসাদুজ্জামান আসাদ ওরফে বুনো আসাদ। এলাকায় অস্ত্রবাজি, বোমাবাজি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা- করে বেড়ায় গ্রুপটি। সম্প্রতি বুনো আসাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ওই এলাকার নাসির, শহিদুল, পান্না, ফারুক, সোহাগ ও পাভেলসহ অনেকে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের সায়েস্তা করতে মরিয়া গয়ে ওঠে আসাদ।
এলাকার আরো একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই দিন দুপুরে বুনো আসাদ তার একই এলাকার নাসিরের বাড়িতে যায়। নাসিরকে না পেয়ে তার স্ত্রী বিউটি বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং বোমা মেরে খুন করার হুমকি দেয়। পরের দিন ২৫ জানুয়ারি দুপুরে নাসিরদের খুন করতে বুনো আসাদের নেতৃত্বে তার ভাই সাঈদ, কোরবান আলী, মৃত লৎফরের ছেলে মামুন, কবিরের ছেলে মিলন, বাবু কসাইয়ের ছেলে আরমানসহ একদল সন্ত্রাসী বোমা তৈরি করছিল। সে সময় একটি বোমার বিস্ফোরণে কোরবান আহত হয়। তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানকার চিকিৎকরা তাকে ঢাকায় রের্ফাড করেন। এঘটনায় মূল সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান বুনো আসাদকে আড়াল করে মামলা করে পুলিশ। ফলে ঝামেলামুক্ত থেকে আবারো সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে আসাদ।
গত ২ দিন ধরে বাহিনী প্রধান বুনো আসাদ ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সে বিভিন্ন এলাকার চিহিৃত সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে এনে এলাকায় জড়ো করছে। সংগ্রহ করছে আগ্নেয়াস্ত্র। তৈরি করছে বোমা। এলাকাবাসী আশংকা করছেন ফের অশান্ত হয়ে উঠতে পারে বেজপাড়া এলকা। এদিকে বোমা বিস্ফোরণের মামলায় বুনো আসাদকে আসামি না করায় পুলিশ সম্পর্কে নানা ধরনের সমালোচনার সৃষি।ট হয়েছে বেজপাড়া এলাকায়।
এব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত শেখ গণি মিয়া জানান, পুলিশ ওই এলাকায় টহল জোরদার করেছে। সন্ত্রাসীদের আটকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার