মধু প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু॥ মধু চাষে সাতক্ষীরার ৩ শতাধিক পরিবারের ভাগ্য বদল

huny
সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা॥ বাংলাদেশে প্রথম ১৯৬৩ সালে বাগেরহাটের যাত্রাপুরে আধুনিক পদ্ধতিতে মৌমাছি পালন কার্যক্রম শুরু হয়। এপিস ক্যারানা প্রজাতির মৌমাছি পালনের জন্য ব্রিটিশ নাগরিক বেভারেজ নিউটন আবিস্কৃত বাক্স এখন সাতক্ষীরায় বিভিন্ন স্থানে ব্যবহার করে মধু চাষ করা হচ্ছে। মধুর মূল উপাদান হচ্ছে নেকটার। আর এ নেকটার এর মূল উৎস ফুল। মৌমাছিরা মধু থলীতে নেকটার রাখে এবং সেখানে বিভিন্ন জারক রসের মাধ্যমে বিক্রিয়া ঘটিয়ে কোষে জমা করে। এই জমাকৃত পদার্থ হল মধু। আর এ মধূ চাষ করে সাতক্ষীরার প্রায় তিন শতাধিক পরিবার এখন স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে । ইতিমধ্যে সাতক্ষীরায় মধু প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানাযায়, বছরের সাত মাস মৌমাছি তার মধু সংগ্রহ করে। মধু উৎপাদনে সুন্দরবনের ভুমিকা অপরিসীম। সুন্দরবনের ফুল থেকে উৎকৃষ্ট মানের মধু উৎপাদিত হয়। চৈত্র মাসে খলিসা গাছ থেকে আহরিত মধু স্বাদে আর সুগন্ধে অতুলনীয়। এছাড়া বৈশাখ মাসে গরান, জৈষ্ঠ্য মাসে কেওড়া, আষাড় মাসে বাইন ও গেওয়া গাছের ফুল থেকেও মধু আহরন করে মৌমাছিরা। আর মৌ খামারীরা সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় মৌমাছিযুক্ত বাক্স স্থাপন করে আধুনিক পদ্ধতিতে মধু আহরন করে থাকেন। মৌমাছিরা সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের ফুল থেকে সংগৃহিত মধু নিয়ে তাদের নিজ নিজ বাক্সে ফেরে। এভাবেই ক্রমে ক্রমে সঞ্চিত মধু নির্দিষ্ট সময়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আহরন করে বোতলজাত করা হয়। শ্রাবন থেকে অগ্রহায়ন মাস পর্যন্ত মৌমাছিরা সাধারনত বাক্সে অলস সময় পার করে। আর ঠিক এসময়ে মৌমাছিদেরকে মধু ও চিনি মিশ্রিত পানি খাওয়ানো হয়। পৌষ মাস থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকার সরিষা, ধনিয়া, কালো জিরা ও লিছু গাছের ক্ষেতের কাছে মৌ বাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহ করেন খামারীরা। আর এ মধু চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন সাতক্ষীরার মৌখামারী চাষীরা। সাতক্ষীরা জেলায় ২৮০ জন মৌ খামারী মৌচাষে সম্পৃক্ত আছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবী। মৌখামারীরা এক লাখ টাকায় ত্রিশটি মৌ বাক্স তৈরী করে তাদের এক বছরের খরচ বাদে লাভ করেন কমপক্ষে এক লাখ টাকা। তবে মৌখামারীরা ব্যাংক ঋন পেলে মৌচাষ আরো সম্প্রসারিত করতে পারতেন বলে তারা জানিয়েছেন। এছাড়া প্রক্রিয়াজাত করে যাতে বিদেশে মধু রপ্তানী করা যায়, সেজন্য সাতক্ষীরার বিনেরপোতায় বিসিক শিল্পনগরীতে একটি মধু প্রক্রিয়াজাত কারখানা স্থাপনের দাবী জানিয়েছেন তারা। মৌখামারী ও কেন্দ্রীয় মৌ-চাষী কল্যাণ সমিতির সাধারন সম্পাদক এবাদুল্লাহ আফজাল জানান, মৌমাছি লালন পালন করি। যখন যে ফুল হয়, তখন সেখানে যাই। বর্ষাকালে মৌমাছিদের খাওয়ার দিতে হয়। পিপড়া ধরলে মৌমাছি নষ্ট হয়ে যায়। বৃষ্টিতে মৌবাক্সে যাতে পানি না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়। তিনি আরও বলেন, মধু শোধন না করতে পারার কারনে একদিকে যেমন বিক্রির সমস্যা হচ্ছে, তেমনি বাংলাদেশে বড় কোন কোম্পানি না থাকায় মধু অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে। বছরে ২০ হাজার মেট্রিক টন মধু আহরণের লক্ষমাত্রাকে সামনে রেখে মৌচাষীদের যেমন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে তেমনি ব্যাংক ঋণ না পাওয়ার কারনে মৌচাষিরা বড় ধরণের খামার প্রস্তুত করতে পারছে না। সাতক্ষীরা-বিসিকের ভারপ্রাপ্ত অফিস প্রধান নাজরিন সুলতানা জানান, আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মৌচাষ উন্নয়ন প্রকল্প সফল বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ইতোমধ্যে মৌদক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে মৌচাষিদের নিয়ে ২ সপ্তাহব্যাপি প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়েছে। অতিশীঘ্রই বাংলাদেশে এই প্রথম, বিসিক শিল্পনগরী, বিনেরপোতা, সাতক্ষীরায় একটি অত্যাধুনিক মধু প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের প্রক্রিয়া হাতে নেয়া হয়েছে। যা প্রক্রিয়াধীন।

শেয়ার