প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা॥ ভোমরা বন্দরে বিজিবির অনৈতিক কর্মকাণ্ডে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

vomra bondor
সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা॥ ভোমরা বন্দরে আমদানি রপ্তানিকৃত পন্যের ওজন গ্রহণ ও ডিউটি পরিশোধকৃত পণ্য আটকসহ বিজিবি সদস্যদের অনৈতিক হস্তক্ষেপে শান্ত ভোমরা বন্দর আবারো অশান্ত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গত তিনমাস ধরে একই অবস্থা চলার এক পর্যায়ে বন্দরের রাজস্ব আদায় কমতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তার অভাবে এবন্দরে পন্য আমদানি রপ্তানি কমিয়ে দেওয়ায় বন্দরের আওতায় থাকা কয়েক হাজার শ্রমিক ব্যবসায়ী বেকার হয়ে পড়ছে। এসব বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে একাধিকবার জানিয়ে কোন আশাব্যাঞ্জক ফল না পাওয়ায় দিনের পর দিন ব্যবসায়ীরা আরও হতাশ হয়ে পড়ছেন। অবশেষে ভোমরা কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী বরাবর সাতক্ষীরা ৩৮ বিজিবি’র অনৈতিক এই হস্তক্ষেপের প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ভোমরা বন্দর কোলকাতা থেকে নিকটে হওয়ায় বিভিন্ন প্রকার ফলমুল, পিয়াজ, মরিচ, মাছসহ অন্যান্য দ্রুত পচনশীল পন্য এবন্দর দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এসব পন্য দ্রুত খালাস করতে না পারলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখিন হন। আর দ্রুত খালাস করার ক্ষেত্রেই যত বাধা। বিগত ৩০ অক্টোবর ২০১৫ তারিখ থেকে ভোমরা শুল্ক স্টেশনে বিজিবি সদস্যগন তাদের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের মৌখিক নির্দেশে আমদানিকৃত পন্যের ওজন গ্রহণ ও ডিউটি পরিশোধকৃত পন্য আটক করে হয়রানি করতে থাকে। যা কাস্টমস স্টেশনের এখতিয়ার বহির্ভুত। তারা সরকারের অর্জিত রাজস্ব আদায়ে বাধা সৃস্টি করে চলেছে। বিজিবি’র এসব অবৈধ হস্তক্ষেপে আমদানিকারকগন উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। ফলে গত ৩ মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব কম অর্জিত হয়েছে দাবী করে রাস্ট্রীয় এক্ষতির দায় দায়িত্ব বিজিবিকেই নিতে হবে বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে। সার্বিক বিষয়ে ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এসব বিষয়ে ভোমরা বন্দরের সহকারি কমিশনার শরিফ মোহা. আল আমীন জানান, শুল্ক স্টেশনের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে বিজিবি কর্তৃক অভিযান বা এধরণের কোন কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ না থাকলেও তারা তা অব্যাহতভাবে করে যাচ্ছে। যা রাষ্ট্রীয় বিধি বিধান পরিপন্থী।

শেয়ার