দুই নারীকে আটকে রেখে চাঁদা দাবি॥ সতীঘাটায় চাঁদাবাজদের গণপিটুনি ২ জনকে পুলিশে সোপর্দ

gonopituni
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ চোরাইপথে আনা ভারতীয় শাড়িসহ দুই নারীকে আটকে রেখে চাঁদা আদায়ের সময় দুইজনকে গণপিটুনির পর পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনগণ। এ সময় চাঁদাবাজদের ব্যবহৃত (খুলনা মেট্রো-হ-১১-২২১১) নম্বরের একটি বাজাজ ক্যালিবার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার সতীঘাটায় এ ঘটনা ঘটে। আটক দুইজন হলেন যশোর সদর উপজেলার পান্থাপাড়া গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেন (২৫) ও কামালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক মোল্লার ছেলে আলমগীর হোসেন।
ভুক্তভোগী রুবিনা খাতুন জানান, আছিয়া খাতুনসহ তাদের দু’জনের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা উপজেলার চৌগাছা গ্রামে। অভাবের তাড়নায় তারা দু’জনেই ভারতীয় শাড়ি পাটকেলঘাটা থেকে যশোর শহরে এনে বিক্রি করেন। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে শাড়ি নিয়ে মণিরামপুর হয়ে বেবিট্যাক্সিযোগে যশোর শহরের দিকে আসছিলেন। পথিমধ্যে যশোর সদর উপজেলার সতীঘাটা ব্রিজের ওপর আসামাত্র কামালপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে ওয়াজেদ আলীর নেতৃত্বে থাকা একই গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে আব্দুল মালেক, সাহাবুদ্দিনের ছেলে শামীম আহম্মেদ, আটক ইমরান ও আলমগীরসহ ৫/৬ জন তাদের পথরোধ করে। এরপর ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চায় তারা। একপর্যায়ে ওয়াজেদ আলী আছিয়া খাতুনের কাছ থেকে দেড় হাজার টাকা এবং রুবিনার কাছ থেকে আব্দুল মালেক ৩শ’ টাকা কেড়ে নেয়। কিন্তু এরপরে তাদের শাড়ি কাপড় ফেরত দিতে অস্বীকার করে। এ সময় তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে গণধোলাই দেয়। তখন ইমরান ও আলমগীরকে তারা ধরে রাখতে পারলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। তবে পালিয়ে যাওয়া ওয়াজেদ আলী মোটরসাইকেলটি ফেলে যায়। পরে খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত শেখ গণি মিয়া ঐ দু’জনকে আটক ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করেন।
সূত্রে জানা গেছে, আটক ইমরান হোসেন পেশায় একজন ইজিবাইক চালক ও অপরাধ সিন্ডিকেটের একজন সদস্য। যাত্রী বহনের পাশাপাশি সুযোগ বুঝে তারা ছিনতাইয়ের কাজ করে।

শেয়ার