সাতক্ষীরায় নিউমনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত অর্ধশতাধিক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি ॥ শীতে শিশুর দিকে বিশেষভাবে নজর দেয়ার পরামর্শ চিকিৎসকের

nimonia
আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা॥ মাঘের শুরুতে শীতের প্রভাব খুব বেশি অনুভুত না হলেও বুধবার গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হওয়ার পর সাতক্ষীরায় শীত জেঁকে বসেছে শীত। বৃষ্টির পর থেকেই চলছে মৃদু শৈতপ্রবাহ। যেকারণে হালকা বাতাসে শীতের কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ৪দিনের প্রচন্ড ঠান্ডায় জেলায় নিউমনিয়া ও ডায়েরীয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব রোগে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশী। গত ৪ দিনে ডায়েরীয়া ও নিউমনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অর্ধশতাধিক শিশু সদর হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ বিষয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ শিশুর দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
সাতক্ষীরা অঞ্চলে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে শীতের দাপট যেনবাড়ছে। যেকারণে শহর ছেড়ে লোকজন সন্ধ্যার আগে ঘরে ঢুকছেন। দ্রুত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হাঁট-বাজার। সেই সাথে ঘণ কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে রাত ও দিনের প্রায় অর্ধেক সময়। ভোর বেলা ঘণ কুয়াশায় ঢাকা থাকছে শহরের রাস্তাঘাট। দুপুরে হালকা রৌদ বের হলেও তার উত্তাপ খুব কম থাকে। হঠাৎ প্রচন্ড শীতে শ্রমজীবি মানুষের ভোগান্তি আরো বেড়ে গেছে। কনকনে শীতে তারা ঠিকমত কাজ করতে পারছে না। শীতে বস্তির হত দরিদ্রদের দূর্ভোগ বেড়ে গেছে। এবছর শীত আর পড়বে না এমন ভেবে অনেকই গরম কাপড় ছেড়ে দিয়েছিলেন। ফলে বিক্রি আর বাড়বে না ভেবে শহরের পুরানো কাপড়ের দোকানে শুরু হয়েছিল মূল্য হ্রাসে শীত পোশাকের বিক্রি। কিন্তু হঠাৎ করে গত দুই দিন ধরে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দোকানীরা আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। গরম কাপড়ের খোঁজে আবার পুরানো কাপড়ের দোকানে ভীড় জমাচ্ছেন সাধারন মানুষ। শীতের পুরানো কাপড় কিনতে হচ্ছে আগের দামে। এদিকে হঠাৎ করে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে শিশুদের নিউমনিয়া ও ডায়েরিয়াসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগ। গত বৃহস্পতিবার থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত ডায়েরীয়ায় আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ৩৩ জন শিশু। এরমধ্যে ২১ জানুয়ারি ১০ জন, ২২ জানুয়ারি ১২ জন ও রোববার দুপুর পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ১১জন শিশু। সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ১৩ মাস বয়সী শিশু জুই এর বাবা সদর উপজেলার ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের নেপাল দাশ জানান, হঠাৎ করে ঠান্ডা বেশী পড়ায় তার মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ঘন ঘন পাতালা পায়খানা শুরু হওয়ায় একজন গ্রাম ডাক্তারের পরামর্শে মেয়েকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছি। অরপদিকে ডায়রীয়া ও নিউমনিয়া আক্রান্ত হয়ে ১৭ জন শিশু সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ১২জন ডায়েরীয়ায় ও ৫ জন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ সামছুর রহমান জানান, আবহাওয়া পরিবর্তন জনিত কারনে শীত বেশী পড়লে শিশু ও বয়ষ্করা শীত জনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে ঠান্ডাজনিত কারণে শিশুদের ডায়েরীয়া ও নিউমোনিয়া হতে পারে। এজন্য শীতে গরম কাপড় ব্যবহারের পাশাপাশি শিশুদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

শেয়ার