যশোরে বিজ্ঞান মেলায় উৎসুক মানুষের ভিড় ॥ জ্বালানিবিহীন সেচযন্ত্র আবিষ্কার, সেচ দেয়া যাবে পাঁচ বিঘা জমিতে

bristy
সালমান হাসান॥
বিদ্যুতের ব্যবহার ছাড়াই জ্বালানিবিহীন সেচযন্ত্র দিয়ে পাঁচবিঘা কৃষি জমিতে পানি দেয়া যাবে। এমন একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন শার্শার মোটর ম্যাকানিক মিজানুর রহমান। আর আয়োজন স্থলে উপস্থিত না থেকেই পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে ফোন কল করে ডিজিটাল কাঁচি দিয়ে কাটা যাবে উদ্বোধন অনুষ্ঠানের ফিতা। এমন যন্ত্রেও আবিষ্কার করেছেন যশোরের এক ক্ষুদে বিজ্ঞানী। এছাড়া জ্বালানিবিহীন স্বয়ংক্রিয় বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্রে চলবে রাইসমিল অটোরাইসমিল। যা সম্পূর্ণরুপে শব্দ দূষণমুক্ত। এসব আবিষ্কার দেখতে যশোর জিলা স্কুলে বিজ্ঞান মেলায় ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।
জিলা স্কুলের ৫ম ভবনের সামনে এগিয়ে যেতেই দেখা যায় স্যালোমেশিন জাতীয় একটি যন্ত্র দিয়ে পানি বের হচ্ছে। তবে স্যালোমেশিনে যেমন বিকট শব্দ হয় এতে তেমন শব্দ হচ্ছে না। আলাপচারিতায় এ যন্ত্রের উদ্ভাবক শার্শার মিজানুর রহমান জানালেন তার আবিষ্কৃত জ্বালানীবিহীন জলসেচ যন্ত্রের কথা।
জানা গেল, কোন প্রচার জ্বালানি ব্যবহার না করে এ সেচযন্ত্র দিয়ে পাঁচবিঘা পর্যন্ত জমিতে পানি দেয়া যাবে। শুধু তাই নয়, জমির পানি শুকিয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয় কায়দায় মেশিন চালু হয়ে জমিতে পানি সেচ আরম্ভ হবে।
যন্ত্রটির উদ্ভাবক মিজানুর রহমান বললেন, এ সেচযন্ত্র কেউ নিতে চাইলে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ পড়বে। তবে তার দাবি রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা পেলে এবং অধিক পরিমাণে এ সেচযন্ত্র উৎপাদন করতে পারলে দাম ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় নেমে আসবে। পেশায় মটর মেকানিক এই উদ্ভাবক ১টা ৪৮ ভোল্টের সিসি মটর, ১২ ভোল্টের একটা ডায়নামা, ১টা ৪৮ ভোল্টের ব্যাটারি, ১ কিলোমিটার মিনি জেনারেটর আর বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম দিয়ে এ সেচযন্ত্র তৈরি করেছেন। এর স্থায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে আবিষ্কারক বলেন, বছরে একবার ব্যাটারি পরিবর্তন করতে হবে। এতে ১০/১২ হাজার টাকা খরচ পড়বে। এছাড়া আর কোন ব্যয় নেই। এই উদ্ভাবক একটি ডিজিটাল কাঁচি উদ্ভাবন করেছেন এই কাঁচি ব্যবহার করে বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে ফিতা কেটে বেলুন উড়িয়ে নতুন কিছুর উদ্বোধন করতে পারবেন। শুধুমাত্র ডিজিটাল কাঁচির বক্সে রাখা নির্দিষ্ট মোবাইল ফোনে কল করলেই সয়ংক্রিয় কায়দার ওই কাঁচি কাটবে ফিতা। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিডিও কনফারেন্সে পদ্মা সেতু উদ্বোধন দেখে তাঁর মনে এ যন্ত্র আবিষ্কারের বাসনা জাগে। এদিকে, এর পাশের স্টলে গিয়ে দেখা গেল জ্বালানিবিহীন স্বয়ংক্রিয় বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র। এটির ‘উদ্ভাবক’ এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভারসিটির তড়িৎ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাশহা আহমেদ নিলয় জানালেন, তার আবিষ্কারের কথা। নিলয়ের দাবি এ যন্ত্র ব্যবহার করে বাসা-বাড়ির বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রাইস মিল ও অটোরাইস মিল চালানো যাবে। আর যন্ত্র ব্যবহারে কমে আসবে বিদ্যুৎ ব্যয়। লক্ষ লক্ষ টাকার বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হবে ছোট ছোট শিল্পের মালিকদের। এই উদ্ভাবক আরো দাবি করেন, এ যন্ত্র দিয়ে রাইস মিল ও অটোরাইস মিল চালানো হলে ৫/৭ লাখ টাকার বিল ১ লাখ টাকায় নেমে আসবে। তবে বর্তমানে এ যন্ত্রের সুবিধা নিতে চাইলে তাকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা গুনতে হবে। তবে এই উদ্ভাবক আরো জানান, বাণিজ্যিকভাবে এ যন্ত্র উৎপাদন করা গেলে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার সরবরাহ করা যাবে। আলাপকালে তিনি জানান, ৫টা ১২ ভোল্টের ব্যাটারি, ১টা ডিসি মটর, ১টা বড় অল্টানেটর বা জেনারেটর, ১টা জেনারেটর, ১টি ফ্লাই হুইল, ১টা প্যানেল বোর্ড ও ব্যাটারি ১টা চার্জার দিয়ে তিনি এটি তৈরি করেছেন। ১ থেকে ২৪ কিলোওয়ার্ট বিদ্যুৎ সরবরাহকারী এ ধরণের যন্ত্র তিনি সরবরাহ করতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন।

শেয়ার