চৌগাছায় চিকিৎসকের অবহেলায় দু’সন্তানের জননীর মৃত্যু

doctor
নিজস্ব প্রতিবেদক, চৌগাছা॥ যশোরের চৌগাছা উপজেলায় জন্ম নিরোধের ইনপ্লান্ট পদ্ধতি গ্রহণের পর অসুস্থ্য হয়ে পড়েন দু’সন্তানের জননী রেশমা। অবশেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে সেখানেই প্রাণ গেল তার। স্বজনরা মৃত্যুর জন্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও কর্তব্যরত চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি ২ সন্তানের জননী ছিলেন। এ ঘটনায় এলাকায় তোড়পাড় শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার বহিলাপোতা গ্রামের মিন্টুর স্ত্রী রেশমা খাতুন মালা (২০) ৩ মাস আগে ২ সন্তান জন্ম দেন। গত ১ মাস আগে বহিলাপোতা ওয়ার্ডের পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা আমেনা খাতুনের পরামর্শে জন্ম নিরোধের জন্য ইনপ্লান্ট পদ্ধতি গ্রহণ করেন। এরপরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে গত বৃহস্পতিবার তাকে চৌগাছা উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে কিছু ঔষধ দিয়ে বাড়িতে পাঠায়ে দেয়া হয়। শনিবার রেশমার অবস্থার অবনতি হলে তাকে আবারো চৌগাছা হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে নেয়। রোববার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিসৎকরা জানান, রেশমার লিভার জন্ডিস হয়েছে। তাকে এই মুহূর্তে যশোর মেডিকেলে নিতে হবে। এই চিকিৎসার জন্য ১ লাখ টাকা খরচ হতে পারে বলেও জানিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু রেশমার পরিবার অতি দরিদ্র হওয়ায় তারা যশোরে আনতে অপারগতা প্রকাশ করে চৌগাছাতেই রাখতে অনুরোধ করে। পরে রোববার গভীর রাতে রেশমার মৃত্যু হয়। তবে সকালে তার গ্রামের লোকেরা রেশমার লাশ নিতে আসে এবং মৃত্যু সনদ দাবি করলেও দেয়া হয়নি। পরে স্থানীয়রা তাকে মৃত্যু সনদ ছাড়াই দাফন করার প্রস্তুতি নিলে খবর পেয়ে সকাল ১১টার দিবে স্থানীয় সাংবাদিকরা রেশমার বাড়িতে গেলে তার স্বজনরা জানান, বহিলাপোতা গ্রামের আমেনা খাতুন তাদের বলেছেন কোন অভিযোগ করলে রেশমার পোষ্টমোর্টেম করা হবে। এই ভয়ে তার স্বজনরা রেশমার ইনপ্লান্ট পদ্ধতি গ্রহণের বিষয় অস্বীকার করে। তবে সাড়ে ১১ টার দিকে সাংবাদিকরা চলে আসলে আমেনা খাতুন ফের গিয়ে রেশমার শরীর থেকে ইনপ্লান্টের ক্যাপসুল বের করে দেন বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলার সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। প্রায় ১০ বছর আগে বহিলাপোতা গ্রামের মিন্টুর সাথে জীবন নগর থানার মেদনীপুর গ্রামের দেলবারী মন্ডল তার মেয়ে রেশমাকে বিয়ে দেন। এদিকে মাকে হারিয়ে মুর্ছা যাচ্ছে তার ৮ বছরের মেয়ে মীম। পরিবারের স্বজনরা ৩ মাসের শিশু কণ্যা জিনিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে বলেছেন নানা সংশয়ের কথা।
এ ব্যাপারে আমেনা খাতুনের ফোন করে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএসএম আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমি শুনেছি ঐ মহিলা জন্ম নিরোধক পদ্ধতি গ্রহণ করেছিল। কিন্তু এতে তো এমন হওয়ার কথা নয়। আগামীকাল একটি টিম পাঠানো হবে জানিয়ে বলেন, এরপর বলা যাবে আসলে কি হয়েছে। অপরদিকে স্বরুপদাহ ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম, এ ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করে বলেন রেশমা খাতুন লেবার জন্ডিসের কারনে মারা গেছেন।

শেয়ার