ইউরিয়া তৈরি প্রযুক্তি, ট্রলার ডুবি নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ ৮০ যন্ত্র আবিষ্কার করেছে যশোরের শিক্ষার্থীরা ॥ জিলা স্কুলে চলছে প্রদর্শনী, দর্শনার্থীদের ভিড়

dron abis
সালমান হাসান॥
ইট ভাটার ধোঁয়া থেকে ইউরিয়া তৈরির প্রযুক্তি, সোলার চালিত স্পিডবোর্ড, ট্রলার ডুবি নিয়ন্ত্রণসহ ৮০টি উদ্ভাবনী নিয়ে রোববার জিলা স্কুল আঙিনায় জড়ো হয় ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা। জেলা প্রশাসন আয়োজিত তিনদিনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় তাদের আবিষ্কারকে জানান দিতে এসেছেন তারা। আর ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের সেসব আবিষ্কার দেখতে দলে দলে ছুটে আসেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
‘টেকসই উন্নয়নে চাই টেকসই প্রযুক্তি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া এ মেলার আয়োজন করেছে যশোর জেলা প্রশাসন। গতকাল দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবির ফেস্টুন বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন। ৩৭ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে এ মেলার আয়োজন করা হয়। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে পৃষ্ঠপোশকতায় আরম্ভ হওয়া এ মেলা চলবে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। আয়োজিত মেলায় আবিষ্কার প্রদর্শনীর পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে উপস্থিত বক্তৃতা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা। সমাপনী দিনে সার্টিফিকেট, সম্মানী ও ক্রেস্ট বিতরণ করা হবে।
গতকাল মেলার উদ্বোধনী দিনে আয়োজন স্থল ঘুরে দেখা যায়, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবনী যন্ত্র নিয়ে মেলায় হাজির হয়। তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ভিড় করেন। জিলা স্কুলের অডিটোরিয়াম সংলগ্ন একটি ভবনে আয়োজিত মেলায় এর তৃতীয় তলায় একটি কক্ষে উড়ছিল চালকবিহীন ড্রোন বিমান। যশোর শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইম হাসান এটি তৈরি করেছে। একই কক্ষে দেখা গেল পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীর উদ্ভাবিত ভূমিকম্প সতর্কীকরণ যন্ত্র। মেলার দ্বিতীয় তলায় পারদের ব্যবহার ছাড়াই ল্যাবে সবাত শ্বসন পরীক্ষার পদ্ধতি মেলে ধরেছে সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের উচ্চমাধ্যমিক বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মারুফ। এতে কম খরচে ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে সবাত শ্বসন পরীক্ষা করা যাবে। এই কক্ষে পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়ায় ইট ভাটায় ধোঁয়া থেকে ইউরিয়া সার তৈরি করে পরিবেশ সংরক্ষণের একটি প্রজেক্ট প্রদর্শন করে দাউদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র আমিন উদ্দিন ও আহমেদ আমীন। দ্বিতীয় তলায় ট্রলার ডুবি নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র নিয়ে এসেছে মুসলিম এইড ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ছাত্র শাহরিয়ার কবির ও নাইমুর রহমান মাসুম। এ যন্ত্রের মাধ্যমে ট্রলার ডুবি নিরোধ করা যাবে। মেলায় সৌরচালিত স্পিডবোর্ড নিয়ে হাজির হয়েছে আব্দুর রাজ্জাক কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্র সজল আমিন, মেলায় দেখা গেল বাদশাহ ফয়সাল ইসলামী ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির ছাত্র এজেডএম আহাদ কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানী তৈরির প্লান্ট আবিষ্কার করেছে।
এদিকে, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কয়েকটি বিজ্ঞান ক্লাবের সদস্যদের উদ্ভাবিত যন্ত্র নিয়ে এসেছেন। শিউলি কুঁড়ি বিজ্ঞান ক্লাবের রান্নু আলী ও মিজানুর রহমান অগ্নিকান্ডের বিপদসংকেত দানকারী যন্ত্র নিয়ে হাজির হয়েছেন। এছাড়া রংধনু বিজ্ঞান ক্লাব একই জমিতে কয়েক রকম ফসল চাষের পদ্ধতি প্রদর্শন করেছে। মেলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে যশোর জেলা স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক (প্রভাতী) ও মেলার যুগ্ম সম্পাদক আব্বাস উদ্দীন জানান, আগামী ২৬ তারিখ পর্যন্ত বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেলা চলবে। আজ সকাল ১১টায় ও আগামীকাল বিকাল ৩টায় উপস্থিত বক্তৃতা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার