সুন্দরবনের কাঁকড়া বিক্রি হচ্ছে নার্সিং পয়েন্ট’র নামে! ॥প্রজনন মৌসুমে কাকড়া আহরণ করা নিয়ে টু-শব্দ নেই কর্তৃপক্ষের

Kakra
সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা॥ সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ প্রাণিজ সম্পদ কাঁকড়া’র বর্তমান সময়ে প্রজনন মৌসুম চলছে। যেকারণে কাঁকড়া’র বংশ বিস্তার নির্বিঘœ করতে জানুয়ারি-ফেব্র“য়ারি মাসকে প্রজনন মৌসুম গণনা করে। এসময় কাঁকড়া শিকার সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও থেমে নেই শিকার নিষিদ্ধ কাঁকড়া আহরণ। সুন্দরবন থেকে কাঁকড়া শিকার বন্ধ দাবি করলেও চলমান এ প্রজনন মৌসুমেও সব জেলে, ফড়িয়া, পয়েন্ট মালিক এমনকি কাঁকড়া ঘর মালিকরা দিব্যি কাঁকড়ার বেঁচা বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সবারই অভিন্ন দাবি বাজারে আসা সব কাঁকড়াই নার্সিং পয়েন্টের। আগেভাগেই শিকারকৃত অপরিপক্ক কাঁকড়া নার্সিং পয়েন্টে রেখে মোটাতাজাকরণের পর বর্তমানে বাজারজাত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
বিভিন্ন সুত্রে প্রাপ্ত তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে বর্তমানে বাজারে দেখতে পাওয়া সমুদয় কাঁকড়া সুন্দরবনের। কিন্তু বর্তমানে শিকার নিষিদ্ধ হওয়ায় কৌশলগত কারণে সুন্দরবন থেকে আসা এসব কাঁকড়াকে নার্সিং পয়েন্টের কাঁকড়া বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত সব পক্ষই কমবেশি জানার পরও অজ্ঞাত কারণে নীরবতা পালন করছে। আর কাঁকড়া ব্যবসার সাথে জড়িতরা সব পক্ষকে ‘ম্যানেজ’ করে সুন্দরবনের শিকার নিষিদ্ধ কাঁকড়াকে পয়েন্টের কাঁকড়া’র সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিব্যি প্রকাশ্যে বাজারজাত করে চলেছে। সুন্দরবন তীরবর্তী মীরগাং নদী তদসংলগ্ন মীরগাং নদীর চরে স্থানীয় স্বপন মোড়ল নার্সিং পয়েন্ট গড়ে তুলেছে। অবৈধভাবে নদীর চর দখলে নিয়ে চারিদিকে নেট-পাটা দিয়ে ঘেরা-বেঁড়া দিয়ে সেখানে কাঁকড়া জমিয়ে রাখা হয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসিসহ স্বপনের নিকট আগের রাতে কাঁকড়া বিক্রি করে যাওয়া কয়েক জন জেলের সাথে কথা বলে যে তথ্য পাওয়া গেছে তা রীতিমত চমকপ্রদ। এসব জেলে ও স্থানীয়রা জানায়, সুন্দরবন থেকে কাঁকড়া শিকার নিষিদ্ধ। যেকারণে সুন্দরবন থেকে সরাসরি বাজারে কাঁকড়া নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। অথচ বছরের এই সময়ে কাঁকড়ার মুল্য স্বভাবিকের তুলনায় দু’তিন গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ফলে অধিক মুনাফার জন্য স্বপন মোড়লের মত আরও অনেক কাঁঁকড়া ব্যবসায়ী সুন্দরবন সংলগ্ন নদীর চরে কাঁকড়া’র পয়েন্ট তৈরি করেছে। সুন্দরবন থেকে উপকুলে আসা কাঁকড়া ঘাট বা চর থেকে কিনে নেয় ব্যবসায়ীরা। এসময় সদ্য ক্রয় করা কাঁকড়া বাজারজাতকরণে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার কথা বিবেচনায় নিয়ে নৌ-ঘাট বা চর থেকে কাঁকড়া কিনেই তা চরের ঐসব পয়েন্টে আটকে রাখা হচ্ছে। দু’তিন দিন পার হলেই ঐ কাঁকড়া সরাসরি পয়েন্ট থেকে উঠিয়ে বাজারে নেয়া হচ্ছে পয়েন্ট কাঁকড়া প্রচারণা চালিয়ে। মীরগাং গ্রামের স্বপন মোড়ল, রনজিৎ বৈদ্য কিংবা সেলিম হোসেনসহ অন্যান্য নার্সিং পয়েন্ট মালিকদের এমন কৌশলী পন্থায় সুন্দরবনের কাঁকড়া রাতারাতি পয়েন্টের কাঁকড়ায় পরিণত হয়ে যাচ্ছে। তবে এমন অবস্থা শুধুমাত্র মীরগাং গ্রামের নদীর চরে না। বরং কালিঞ্চি থেকে শুরু করে মুন্সিগঞ্জ এমনকি কলবাড়ি পর্যন্ত একই কৌশলে সুন্দরবনেনর কাঁকড়ার শরীরে রাতারাতি পয়েন্টের কাঁকড়া’র লেভেল সেঁটে দেয়া হচ্ছে। পুরো বিষয়টি বনবিভাগসহ সব পক্ষই অবহিত থাকা সত্ত্বেও তারা বেমালুম এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ হরহমেশাই পাওয়া যাচ্ছে। যদিও বনবিভাগের দাবি সুন্দরবনের কাঁকড়া শিকার বন্ধ বিধায় কাউকে কাঁকড়া ধরার পাশ দেয়া হচ্ছে না। তবে কেউ কেউ লুকিয়ে বা সাদা মাছের পাশ নিয়ে বনে প্রবেশ করে কাঁকড়া শিকার করলে টহল টিমের সদস্যরা তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবে। তবে সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলার ভেটখালী, কলবাড়ী, হরিনগর ও নওয়াবেঁকী মোকামে কৌশল করে সুন্দরবনের কাঁকড়া বাজারজাতকরণের বিষয়ে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কাঁকড়া সুন্দরবনের কি নার্সিং পয়েন্টের তা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে পার পেয়ে যান তারা।

শেয়ার