শৈলকুপা দুধসর আশ্রয়নে বেদে পরিবারে ফিরেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা

8

Jhenidah
সাজ্জাদ আহমেদ, ঝিনাইদহ॥ ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার দুধসর ইউনিয়নের দুধসর গড়ে উঠছে সরকারের ভূমিহীন আশ্রয়ণ প্রকল্প। এই আশ্রয়নে প্রায় ১৫ বছর ধরে বসবাস করছে আদিবাসী বেদে সম্প্রদায়ের ১০টি পরিবার। পরিবারগুলোতে মোট ৩০ জন নারী সদস্য রয়েছেন। এরআগে এদের ছিল না স্থায়ী কোন ঠিকানা। তারা সারাদিন নৌকায় চড়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেরিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সরকারের ভূমিহীন আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঠাঁই পেয়ে তাদের অনেকে আজ স্বালম্বী। সবচেয়ে বড় কথা স্থায়ী ঠিকানা হয়েছে তাদের। তাদের ছেলে মেয়েরা এখন স্কুলে যায়। আশ্রয়নে বসবাসকারি নারীরা এখন বিভিন্ন প্রকার কাজ করে সংসারে ফিরিয়েছেন স্বচ্ছলতা। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ও ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া শেখানোর জন্য এই নারীরা বাড়িতে বসেই নানান ধরনের হাতে তৈরী পণ্য বানিয়ে সেটা স্থানীয় হাট বাজারে বিক্রি করছে।
সরেজমিনে আদিবাসী এই নারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের পরিবারের পুরুষেরা বাইরে থেকে বাঁশ কিনে আনেন। যা দিয়ে তারা বাড়িতে বসে ঝুড়ি, ছোট কুলা, ডালা, সরপোস ইত্যাদি সহ বিভিন্ন ধরণের ব্যবহার সামগ্রী তৈরি করে থাকেন। এই কাজে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সাহায্য করে। হাতে তৈরিকৃত এই পণ্যদ্রব্যগুলো পরিবারের পুরুষেরা স্থানীয় বাজারে এবং বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে বিক্রি করেন। এছাড়া বিভিন্ন দরিদ্র ব্যবসায়ীরা বাড়িতে এসে এই সকল হাতে তৈরি ব্যহারী পণ্য কিনে নিয়ে যায়। এতে করে একদিকে তাদের পরিবার সচ্ছল হচ্ছে। পাশাপাশী এই সম্প্রদায়ের নারীরা স্বাবলম্বী হচ্ছে।যার ফলে তাদের আর পুরুষদের উপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে না। এখানকার স্বাবলম্বী নারী শিল্পী রানী জানান, এই কাজের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বড় ছেলেকে কলেজে পড়াচ্ছেন। অন্য দুই জনের সন্তানকে ও স্কুলে পড়াচ্ছেন। ৫ জনের সংসারে স্বামীর উপার্জনের পাশাপাশি এই কাজের মাধ্যমে ভালোই আয় রোজগার হয়। এই সকল পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রী দুই জনের মিলিত আয়ে সংসারের ব্যয় বহন এখন আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। কারো সহযোগীতা না পেলেও এই আদিবাসী সম্প্রদায়ের নারীরা নিজেদের প্রচেষ্টায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এ দেশের বিলুপ্ত প্রায় কুটির শিল্পকে।একই সাথে দেশের যে সমস্ত মানুষদের ভিটা-বাড়ি নেই তাদের জন্য বাসস্থানের বড় ভূমিকা রাখছে আশ্রায়ণ প্রকল্প। শৈলকুপা উপজেলার দুধসর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহেব আলী জোয়ার্দ্দার জানান,সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে আদিবাসী সম্প্রদায়ের স্থায়ী ঠিকানা হচ্ছে। এরা একত্রিত হয়ে বিভিন্ন রকম হাতের তৈরি সামগ্রী বাজারে বিক্রি করে স্বালম্বী হচ্ছে। এরফলে সংসারে আয় রোজাগার বাড়ছে। তাতে তারা তাদের সন্তানদের পড়ালেখা করাচ্ছে। এত করে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচী গুলি সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।