দু’সন্তানের জননীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অপবাদ॥ আশাশুনিতে ইউপি মেম্বারের বিচার মেনে স্ত্রীকে স্বামীর তালাক !

3

opobad
ফায়জুল কবীর, আশাশুনি॥ আশাশুনির উত্তর চাপড়ায় খোদেজা নামে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ ওঠায় তাকে তালাক দিতে বাধ্য করেছেন এক ইউপি মেম্বারসহ গ্রামের একদল মাতবর। শনিবার এক শালিসী বৈঠকের সিদ্ধান্ত মেনে স্বামী রইচ উদ্দীন তার দু’সন্তানের স্ত্রীকে তালাক দেন। এ সময় খোদেজার হাতে ৩৮ হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে বাড়ি থেকে জোরপুর্বক তাড়িয়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ছট্টুর সাথে পরকীয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এরফলে দু’সন্তান যেমন মা হারালেন তেমনি ভেঙ্গে গেল একটি সংসারও। এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও মোড়ল-মাতবরদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না কেউ। এ ব্যাপারে মানবাধিকার সংস্থাসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, একই গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে নানা অপকর্মের হোতা ছট্টু প্রায় রাতে রইচ উদ্দীনের বাড়ি যাতায়াত করে আসছিল। রইচ উদ্দিন বাড়ি না থাকার কারণে প্রতিবেশিদের মধ্যে এনিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। সম্প্রতি বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ছ্টু খোদেজাকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করে বলে অভিযোগ তোলে খোদেজার দেবর এমদাদুল। এমদাদুলের আরেক ভাই কামালও ঘটনার সাক্ষী হয়। তারা ছট্টুকে হাতে-নাতে পাকড়াও করে স্থানীয় মোড়লদের হাতে তুলে দেয়। কিন্তু ঐ রাতেই দেনদরবারের মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। পরদিন সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য আজাহারুল ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহবুবুল আলম ডাবলুসহ একদল মোড়ল শালিস বসিয়ে খোদেজাকে তালাক দিতে বাধ্য করে স্বামী রইচ উদ্দিনকে। এ সময় খোদেজার হাতে ৩৮ হাজার টাকা দিয়ে তাৎক্ষনিক বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। স্থানীয়দের প্রশ্ন, শাস্তি যদি দিতেই হয় তাহলে ছট্টু কেন ছাড় পাবে ? দু’জনকেই শাস্তি দেয়া উচিত ছিল। তাছাড়া খোদেজার দু’সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তাকে ক্ষমা করার সুযোগ ছিল। তাছাড়া তার স্বামী রইচ উদ্দিনও তালাক দিতে রাজি ছিল না। তাহলে কেন মোড়লদের এই বিচার তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে খোদেজা কালিগঞ্জ থানার বন্ধকাটি গ্রামে হতদরিদ্র পিত্রালয়ে মানবতার জীবন যাপন করছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।