গাড়ি ছেড়ে অটোরিকশা, মোটরবাইক, বাসে দিল্লির মন্ত্রীরা

3

fileccc

সমাজের কথা ডেস্ক॥ নতুন বছরের শুরুর দিন আম আদমি মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য গাড়ি ছাড়াই বের হলেন দিল্লির রাজপথে; চড়লেন সাইকেল-অটোরিকশায়; কেউ বা গন্তব্যে পৌঁছাতে ধরলেন বাস।
ভারতের দিল্লি রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল অবশ্য দুই মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে চড়েই বেরিয়েছিলেন; তার গাড়ির নম্বরটি ছিল বেজোড় সংখ্যার।
দূষণ ঠেকাতে আলাদা দিনে জোড়-বেজোড় নম্বরের গাড়ি চালানোর যে নিয়ম কেজরিওয়াল সরকার করেছে, শুক্রবার থেকে ১৫ দিনের জন্য তা পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা এক ধাক্কায় অর্ধেক হয়ে যাওয়ায় ভারতের রাজধানীর রাস্তায় এসেছে নতুন আমেজ।
প্রথম দিন ‘ভালো সাড়া’ পাওয়া গেছে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করেছি।”
নিয়ম অনুযায়ী, জোড় সংখ্যার নম্বরপ্লেটধারী ব্যক্তিগত গাড়ি একদিন এবং পরদিন বেজোড় নম্বরপ্লেটের গাড়ি দিল্লির সড়কে চলবে।
এনডিভির খবরে বলা হয়, শুক্রবার বেজোড় নম্বরের গাড়ি চলার দিন ধার্য থাকায় এ নিয়মের ফাঁদে পড়তে হয়নি মুখ্যমন্ত্রীকে। তার গাড়িতে চড়েই অফিসে গেছেন পরিবহনমন্ত্রী গোপাল রায় ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দর জৈন।
দিল্লিবাসীকে উৎসাহ দিতে দিল্লির উপ মুখ্যমন্ত্রী মনিশ সিসোড়িয়া বলেছেন, “নগরীর স্বার্থে সব সময় নিজেদের গাড়ি ব্যবহারের চিন্তা আমাদের ছাড়তে হবে।”
কেউ এই নিয়ম ভাঙলে তাকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে। তবে গ্যাসচালিত বাস, ট্যাক্সি বা অটোরিকশা, অ্যাম্বুলেন্স এবং ভিআইপিদের গাড়ি এর আওতায় আসবে না বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

এছাড়া, এসপিজি নিরাপত্তা যারা পান তাদের গাড়ি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গাড়ি, বিভিন্ন দূতাবাসের গাড়ি, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিভাগের গাড়িও বিধিনিষেধের বাইরে থাকছে।
কেজরিওয়াল ও তার মন্ত্রীরা বলেছেন, তারা গাড়ি ভাগাভাগি করে চলবেন, বাইসাইকেলে চড়বেন কিংবা বাস ধরবেন।
শুক্রবার পর্যটনমন্ত্রী কপিল মিশ্র কাজে বের হন মোটরবাইক নিয়ে। পরিবেশমন্ত্রী ইমরান হুসাইনের গাড়ির নম্বর জোর সংখ্যার। তিনি ব্যটারিচালিত অটো রিকশায় করে মন্ত্রণালয়ে যান।
আর সমাজকল্যাণমন্ত্রী সন্দিপ কুমারও বাস ধরে অফিসে যাওয়ার কথা বলেছেন।
সিসোড়িয়া সাইকেল ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, “আমার গাড়ি বেজোড় সংখ্যার। জোড় সংখ্যার দিনে আমি সাইকেলে চড়ে অফিসে যাব।”