চালক বলছে ‘ডাকাতি’, যাত্রীরা দুষছেন চালককে

file9632
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহতের জন্য চালক ডাকাতের হামলাকে দায়ী করলেও যাত্রীদের অভিযোগ, চালক শুরু থেকেই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
বুধবার গভীর রাতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কইডুবি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ‘সোনারতরী’ পরিবহনের বাসটি রাস্তার পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেলে ২৫ যাত্রী নিহত হন, আহত হন অন্তত ২০ জন। নিহতদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ ও পাঁচ জন নারী রয়েছেন।

অর্ধ শতাধিক যাত্রী নিয়ে বাসটি ঢাকার গাবতলী থেকে যাত্রী নিয়ে পটুয়াখালী যাচ্ছিল।

নিহতদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০ জনের নাম জানা গেছে।

এরা হলেন- পটুয়াখালীর আসমা বেগম (২৭), আকলিমা বেগম (৪৫), আমেনা (৩০), শাহীন সিকদার (২০) ও হেলাল (৪০), বরিশালের সূর্য বেগম (৭০) ও মো. আফজাল (৪৮), যশোরের মনিরুল ইসলাম (৩৫), মির্জাগঞ্জের রেজাউল (২৩), গোপালগঞ্জের মোকসেদপুরের শফিকুল (২২), হেলাল ফকির, কলাপাড়ার সূর্য বেগম, মিঠু, পাতাকাটার রতন সজ্জন, হারুবান্দি, মোবারক হোসেন, মাহমুদুল হাসান, কবির, আফজাল হোসেন ও হাসনা বেগম।

আহত চালক জাকির হোসেন ও তার সহকারী মন্টুকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ভাঙ্গা মহাসড়ক পুলিশের এএসপি বেলাল হোসেন বলেন, “দুর্ঘটনায় গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাসটির সামনের অর্ধেক দুমড়েমুচড়ে গেছে। বাসটির দ্রুতগতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

দুর্ঘটনায় আহত যাত্রী শাহীন মিয়া, রুবেল ও মানিক ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তারা সাংবাদিকদের জানান, চালক শুরু থেকেই বেপোরোয়া গতিতে বাস চালাচ্ছিলেন। যাত্রীরা কয়েকবার বলার পরও তিনি শোনেননি।

আমিন বাজার পার হওয়ার পর বাসটি বেশ কয়েকটি গাড়িকে বেপরোয়াভাবে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যায়। রাত ১টার কিছু সময় পর সাকুরা পরিবহনের একটি বাসকে ‘ওভারটেক’ করতে গিয়ে বাসটি দুর্ঘটনায় পড়ে বলে জানান রুবেল।
শাহীন মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “বারবার বলেছিলাম, এত দ্রুত গাড়ি চালাবেন না, অ্যাকসিডেন্ট হতে পারে। শুধু আমি না, বাসের আরও অনেক যাত্রী চালককে বারবার সতর্ক করেছে। কিন্তু কোনো অনুরোধই শোনেনি চালক।”

এদিকে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরিশাল মেডিকেলে চিকিৎসাধীন চালক জাকির হোসেন ও তার সহকারী মন্টু।

জাকির হোসেন তিনি বলেন, বুধবার রাত ৮টার দিকে ঢাকার গাবতলী থেকে যাত্রী নিয়ে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। ঢাকা থেকেই ‘যাত্রীবেশে কয়েকজন ডাকাত’ গাড়িতে ওঠে।

“গভীর রাতে ভাঙ্গার মোড় পার হওয়ার সময় ডাকাতদের তিনজন ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে বাসের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়। স্টিয়ারিং ছাড়তে না চাইলে ডাকাতরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়।”

এ সময় সরে যাওয়ায় ওই কোপের খানিকটা বুকে লাগে বলে দাবি করেন জাকির।

“এক পর্যায়ে আমি স্টিয়ারিং ছেড়ে দিলে ডাকাতরা বাসের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং তার ২/৩ মিনিটের মাথায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়।”

শেয়ার