গাছের সঙ্গে বাসের ধাক্কা, ঝরে গেল ২৫ প্রাণ

accedent3

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় গভীর রাতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ২৫ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ২০ যাত্রী। বুধবার রাত সোয়া ১টার দিকে উপজেলার কইডুবি এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে হাইওয়ে পুলিশের এএসপি বেলাল হোসাইন জানান।
‘সোনারতরী’ পরিবহনের বাসটি রাতে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। নিহতদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ ও পাঁচ জন নারী।
আহত ২০ জনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক জানিয়েছেন।

আহত যাত্রীদের বরাত দিয়ে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক শামসুজ্জোহা বলেন, দ্রুত গতিতে থাকা বাসটি ভাঙ্গা মোড় পেরিয়ে টেকেরহাটের দিকে দেড় থেকে দুই কিলোমিটার যাওয়ার পর চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এরপর বাসটি রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। পরে আরো কয়েকটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে কাত হয়ে পড়ে যায় বাসটি।
এতে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই ২২ যাত্রীর মৃত্যু হয়। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর দুজন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে আরও একজন মারা যান। ওই বাসে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিলেন বলে পুলিশ কর্মকর্তা বেলাল জানান।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী সকালে সেখানে গিয়ে নিহতদের দাফনের জন্য প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ হাজার করে টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন।

আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার জেলা প্রশাসন বহন করবে বলেও জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (০৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১ টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার কৈডুবী এলাকায় সোনারতরী পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা- মেট্রো: ব ১৪৭০৭৪) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেলে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এর আগে বুধবার রাত ৯টায় রাজধানীর গাবতলী থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশে রওয়ানা দেয় বাসটি। হতাহত যাত্রীদের অধিকাংশের বাড়ি বরিশাল ও পটুয়াখালী।
বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের অভিযোগ বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণেই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হোসেন সরকারের আহত যাত্রীদের বরাত দিয়ে জানান, রাজধানী ছাড়ার পর বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে থাকেন চালক। আমিনবাজার ব্রিজ পার হওয়ার পর বেশ কয়েকটি বাসকে বেপরোয়া গতিতে অতিক্রম করেন তিনি। যাত্রীরা বার বার নিষেধ করলেও শোনেনি।
নিহত ২৫ জনের মধ্যে আকলি আক্তার, আসমা, আমেনা, হেলাল ও শাহিনের বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। এছাড়া শফিকুলের বাড়ি (২৫) গোপালগঞ্জের মুকসেদপুর, আবজাল মিয়া (৬৫) ও সূর্য বেগমের (৪০) বাড়ি বরিশাল, রেজাউল (৩৫) মির্জাগঞ্জ ও মনিরুল ইসলাম (৩৫) যশোরের বাসিন্দা। নিহত হাসনা বেগমের (৪৫) ঠিকানা পাওয়া যায়নি। পরিবারের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে স্থানীয় জেলা প্রশাসক সরকার শরাফত আলী সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলার মো: আবদুল রশিদকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

শেয়ার