সাড়ে ৫২ হাজার কোটি টাকার ৬ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন

A0Z
সমাজের কথা ডেস্ক॥

একনেকের বৈঠকে ছয়টি প্রকল্পে মোট ৫২ হাজার ৭শ’ ৭৮ কোটি ১১ লাখ টাকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

অনুমোদন করা প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারি খাত থেকে (জিওবি) ৪০ হাজার ৪৮১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১১৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য খাত থেকে ১২ হাজার ১শ’ ৭৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা সংস্থাপনের কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ছয়টি প্রকল্পের বিস্তারিত বিষয় তুলে ধরেন।

তিনি জানান, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা নিশ্চিত করা এবং তাদের সার্বিক উন্নয়নে ছয়টি প্রকল্পে মোট ৫২ হাজার ৭শ’ ৭৮ কোটি ১১ লাখ টাকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রকল্প ছয়টির কাজ ২০১৮ সালের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, রৌমারীর তুরা স্থলবন্দর। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি ৭ লাখ টাকা। ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ২০১৭ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এ প্রকল্পের আওতায় তুরা স্থলবন্দর থেকে রৌমারী উপজেলা সদর পযর্ন্ত মহাসড়কও নির্মাণ করা হবে।

বাংলাদেশের ভেড়ামারা এবং ভারতের বহরমপুরে বিদ্যমান গ্রিড আন্তঃসংযোগ ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা বর্ধিত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয় বৈঠকে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৪০৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সরকারি খাত থেকে ৪৫৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১শ’ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য থেকে আসবে ৮৪৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি) প্রকল্পটি ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করবে।

এদিকে, বিসিক শিল্পনগরী শ্রীমঙ্গল প্রকল্পটি সংশোধিত আকারে বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও বেকারত্ব নিরসনের লক্ষ্যে রফতানি করা হবে মৎস্য প্রজাতির প্রাণী কাঁকড়া ও কুঁচিয়া।

সে লক্ষ্যে বৈঠকে কাঁকড়া-কুঁচিয়া চাষ ও গবেষণা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

প্রকল্পের মাধ্যমে বিপন্ন প্রায় কুঁচিয়া ও কাঁকড়া চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন, দেশীয় জ্ঞান সম্প্রসারণ এবং এসবের বর্তমান পরিস্থিতি নির্ণয়ের কথা বলা হয়।

এ প্রকল্পের আওতায় মৎস্য অধিদফতরের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সুফলভোগী বিশেষ করে আদিবাসীদের কাঁকড়া ও কুঁচিয়া চাষ এবং ব্যবস্থাপনার ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুন নাগাদ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।

ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, দিনাজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, কক্সবাজার, নোয়াখালীসহ দেশের অন্যান্য জেলায় কাঁকড়া ও কুঁচিয়া চাষ উপযোগী নির্বাচিত জলাশয়ে এ চাষ করা হবে। ২৯টি জেলার প্রায় ৬৩টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

শেয়ার