সমাজের কথার আয়োজনে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা॥ বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সকলকেই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

goltebi
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বাল্য বিয়ে নামক সামাজিক ব্যাধির কারণে সম্ভাবনা থাকার পরেও আমরা কাক্সিক্ষত উন্নয়ন করতে পারছিনা। এ কারণে সমাজে অপুষ্টির শিকার শিশুর জন্ম হচ্ছে। তাই বাল্য বিয়ে রুখতে না পারলে আমরা অপুষ্ট জাতিতে পরিণত হব। এই সামাজিক ব্যাধিকে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করতে হবে। এজন্য জনপ্রতিনিধিদের মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে।
দৈনিক সমাজের কথা’র আয়োজনে মঙ্গলবার প্রেসক্লাব যশোরে ‘বাল্য বিয়ে : প্রেক্ষিত যশোর’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
আইইডি ও জনউদ্যোগ যশোরের সার্বিক সহযোগিতায় গোলটেবিল বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনউদ্যোগ যশোরের আহবায়ক এম আর খায়রুল উমাম। পরিচালনা করেন দৈনিক সমাজের কথার বার্তা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন।
এসময় বক্তারা আরো বলেন, সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে অনেক অভিভাবক তার শিশু কন্যাকে বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারলে বাল্যবিয়ের হার কমানো যাবে।
গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারিরা বলেন, ১৯২৯ সালের আইনে মেয়েদের বিয়ের বয়স করা হয়েছিল ১৮ বছর, কিন্তু বর্তমানে সরকার তা পরিবর্তন করে ১৬ বছর বয়সে বিয়ে দেওয়া যাবে এমন আইন করতে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অনুযায়ি ১৮ বছর না হলে প্রাপ্ত বয়স্ক হতে পারে না। যে কোন ধরণের চুক্তি করার যোগ্যতা অর্র্জন করে না সে কিভাবে বিয়ের কাবিনে স্বাক্ষর করবে এমন প্রশ্ন রেখে এই আইন পাস করা থেকে সরকারকে সরে আসার আহবান জানান।
শিক্ষা এবং সচেতনতার অভাবই বাল্যবিয়ের কারণ বলে বক্তারা মনে করেন। বক্তারা মত দেন বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করাটা প্রথম জরুরি কাজ। ২০২১ সালের মিলেনিয়াম গোল অর্জনের জন্য সরকারের বাল্য বিয়ের হার কমানো প্রয়োজন। একারণে বিয়ের বয়স সরকার কমানোর কথা ভাবছে বলে অংশগ্রহণকারি অনেকেই মনে করেন। বৈঠক থেকে হিন্দু বিয়ের ক্ষেত্রেও বাধ্যতামূলক নিবন্ধন করার দাবি জানানো হয়।
গোল টেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক সন্তোষ হালদার, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র যশোরের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মজনু, জয়তী সোসাইটির পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস, অ্যাড. সৈয়দা মাসুমা বেগম, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ যশোরের সাধারণ সম্পাদক তন্দ্রা ভট্টাচার্য, দৈনিক কল্যাণের সম্পাদক একরাম-উদ-দ্দৌলা, যশোর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শ্রাবণী সুর, যশোর পৌরসভার কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমান মুস্তা ও শেখ রোকেয়া পারভীন ডলি, দৈনিক স্পন্দনের বার্তা সম্পাদক শিকদার খালিদ, দৈনিক লোকসমাজের চিফ রিপোর্টার মোস্তফা রুহুল কুদ্দুস, নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কাজী নুরুল ইসলাম, কাজী কামরুল ইমলাম, কাজী আজম শরীফ, কাজী আব্দুল হামিদ, রামকৃষ্ণ আশ্রম পরিচালনা কমিটির সদস্য রবি সাহা প্রমুখ।

শেয়ার