অভয়নগরের হোটেল মালিক হত্যা মামলার রায়॥ দু’কর্মচারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

mamlamamla
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের অভয়নগরের হোটেল মালিক শেখ শওকত আলী হত্যা মামলায় দুই কর্মচারীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহমুদা খাতুন দীর্ঘ ১২ বছর পর এ রায় দেন।
দ-প্রাপ্ত দুই জন হলো চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কাবিখালি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে ফারুক হোসেন এবং যশোরের চৌগাছা উপজেলার টেংগরপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে আব্দুর রব খান। এরমধ্যে ফারুক কারাগারে এবং আব্দুর রব পলাতক রয়েছে।
আদালত সূত্র মতে, অভয়নগরের গুয়াখোলা গ্রামের মৃত সোবহান শেখের ছেলে শওকত হোসেন নওয়াপাড়া বাজারে নূরবাগ মোড়ে নূরবাগ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট খাবারের হোটেলের ব্যবসা করতেন। হোটেল কর্মচারি ফরুক হোসেন ও আব্দুর রবের সাথে টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে বিরোধের জের ধরে শওকত হোসেনকে ২০০৩ সালের ২ অক্টোবর গলা কেটে হত্যা করে। এসময় হোটেল থেকে ১০ হাজার টকা নিয়ে বাইরে থেকে হোটেলে তালা দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। পরদিন সকালে হোটেল বন্ধ পেয়ে স্থানীয় লোকজন শওকত আলীর বাড়িতে সংবাদ দেয়। বাড়ি থেকে লোকজন এসে অভয়নগর থানা পুলিশ এবং বাজার কমিটির সহযোগিতায় হোটেলের তালা ভেঙ্গে ভিতর থেকে শওকতের লাশ উদ্ধার করে। এঘটনায় নিহতের ভাই লিয়াকত আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে অভয়নগর থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ হোটেলের কর্মচারি ফারুক হোসেন ও আব্দুর রবকে আটক করে। ওই সময় আটককৃত আব্দুর রব হোটেল মালিক শওকত আলীকে হত্যার কথা স্বীকার করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অভয়নগর থানার এসআই সাবান আলী ২০০৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর ওই দুইজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন। এরপ্রেক্ষিতে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ১২ বছর পর রায় দেন।
রায়ে অভিযুক্ত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেয়া হয়। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাদের আরও ৬ মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।

শেয়ার