ভাঙছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংসার!

Obama and Netanyahu

সমাজের কথা ডেস্ক॥

সাম্প্রতিক বেশ কিছু ইস্যুকে কেন্দ্র করে ক্রমেই শীতল হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক। এরমধ্যে ইরান ও ফিলিস্তিনি ইস্যু বিশেষভাবে উলে¬খযোগ্য। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের অবস্থান এবং এসব ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে বিশে¬ষকরা বলতে শুরু করেছেন, এবার বোধ হয় ভাঙতেই চলেছে ওয়াশিংটন-তেলআবিবের সংসার!

বিশেষত পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে তেহরানের সুর নরম এবং তার জবাবে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষোভ প্রকাশ এবং ‘দ্বি-রাষ্ট্র’ নীতিতে তার বারবার অবস্থান বদল এ ভাঙনের সুর তুলেছে।

ভাঙনের সুরটা কেমন? বলা হচ্ছে, দীর্ঘদিন থেকে ফিলিস্তিনি ইস্যুতে ইসরায়েলি নীতিতে ঘোরসমর্থন জানিয়ে এলেও সম্প্রতি দ্বিমত পোষণ করতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

দ্বিমত পোষণের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে নেতানিয়াহুর বারবার অবস্থান বদল। ইহুদী রাষ্ট্রটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এতোদিন ধরে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন সংকট নিরসনে ‘দ্বি-রাষ্ট্র নীতি’র বিরোধিতা করে এলেও গত ১৭ মার্চের আকস্মিক নির্বাচনে জয় লাভের পরপরই অবস্থান বদলে ফেলেছেন; বলছেন, তিনি এখন ‘দ্বি-রাষ্ট্র নীতি’তে এই অঞ্চলের সমস্যা নিরসনে রাজি।

আকস্মিক নির্বাচনের আগেও নেতানিয়াহুবিরোধী উদার-মধ্যপন্থি জোট ‘দ্য জায়ওনিস্ট ইউনিয়ন’ ফিলিস্তিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার কথা বলছিল, তখন পর্যন্ত গোঁ ধরে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি কিছুতেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র মানবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন সেসময়। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হতেই পুরোপুরি সুর পাল্টে যায় তার।

ওয়াশিংটনকে অবাক করে কট্টর অবস্থান থেকে সরে আসার সাফাই গেয়ে নেতানিয়াহু দাবি করছেন, তিনি বারবার নিজ অবস্থান পরিবর্তন করছেন না। তিনি আগের অবস্থানেই আছেন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি যে ‘দ্বি-রাষ্ট্র নীতি’ মানবেন না বলে ঘোষণা দিয়ে আসছেন, তা তখনকার পরিস্থিতির কারণেই। তিনি এই অঞ্চলে শান্তি চান। ফিলিস্তিনি ইস্যুকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে এখন সন্ত্রাস মাথাচাড়া দিচ্ছে। আর এই সন্ত্রাস থেকে বাঁচতেই এখন ‘দ্বি-রাষ্ট্র নীতি’ই একমাত্র সমাধান বলেই তিনি এই পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মধ্য-ডানপন্থি এ নেতার এমন অবস্থান বদলে বিস্মিত হন উদার-মধ্যপন্থি রাজনীতিকরাও।

শেয়ার