সিঙ্গিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ॥ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ডিসির কাছে অভিযোগ

oniom durniti
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের সিঙ্গিয়া হাফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় অর্থের বিনিময়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়ায় তা বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছে। রোববার এক প্রার্থী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিতভাবে এ দাবি করে নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে উল্লখ করেছেন। একপি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার, সদর উপজেলা নির্বাী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে, সভাপতির মনোনীত প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া নিয়ে পরিচালনা কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সাথে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র মতে, সদর উপজেলার সিঙ্গিয়া হাফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এক সহকারী শিক্ষিকা নিয়োগ দেয়ার জন্য গত ১৫ জানুয়ারি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ত্রুটি থাকায় ১৮ জানুয়ারি সংশোধনী দেয়া হয়। সে মোতাবেক ৮ জন প্রার্থী আবেদন করেন। গত ২ মার্চ মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার চারজনকে লিখিত পরীক্ষার জন্য চারপ্রার্থীকে সদর উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তারা কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলেন। এরমধ্যে নাজমা, রুপালী খাতুনসহ মোট চার প্রার্থী উপস্থিত হন। এসময় জানতে পারি বর্ণালী রানী এক প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া হবে। এখবর পত্রিকায় প্রকাশ হয়। এরই প্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার উপস্থিত সকলকে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানিয়ে দেয়। ফলে নাজমা খাতুন ও রুপালী খাতুন নামে দুই প্রার্থী বাড়ি ফিরে যান। পরে সন্ধ্যায় নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত ও স্থানীয় পর্যায়ে গুঞ্জন থাকা সেই বর্ণালী রানীকে নিয়োগ দেয়া হয়। এতে অবাক হন অন্য আবেদনকারী। এসব বিষয় উল্লেখ করে আবেদনকারী নাজমা খাতুন নিয়োগ বাতিলের আবেদন করেছেন।
সূত্র মতে, মাদ্রাসার সভাপতি নেতা পরিচয়ধারী আমিরুল ইসলাম খান কয়েক বছর আগে বর্ণালী রানীর কাছ থেকে প্রাইমারি স্কুলে চাকরি দেয়ার নামে চার লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহন করেন। সেখানে চাকরি দেয়া সম্ভব না হলে ওই মাদ্রসায় নিয়োগের জন্য আরো চার লাখ টাকা গ্রহণ করেন। তার এ প্রার্থীর পছন্দ ছিলো না প্রতিষ্ঠানের সুপার মাওলানা আব্দুল হান্নানের। তাই কৌশলে পুলিশ দিয়ে নাশকতা মামলার ধরিয়ে দেন সভাপতি। এরপর সহকারী সুপারকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে সভাপতির মনোনীত প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়ার জন্য একটি বোর্ড গঠন করে।
এদিকে, পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া নিয়ে সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান ও ভারপ্রাপ্ত সুপার শহিদুল ইসলামের সাথে ওই মাদ্রাসার পরিচালনা পরিষদের অন্য সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। ফলে আজ সোমবার সকালে আবারো মাদ্রাসার পরিচালনা পরিষদের মিটিং ডাকা হয়েছে।

শেয়ার