যশোর কোতোয়ালি থানায় পাঁচ পুলিশ সদস্যের গণকবর পাকবাহিনীর নারকীয়তার সাক্ষী

jessore polic gonokobor
লাবুয়াল হক রিপন॥
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে যেমন মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণ দিয়েছেন, তেমনি জীবন বিলিয়েছেন সাধারণ মানুষের। কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার, তাঁতী, জেলে কেউই হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পাননি। তেমনি রক্ষা পাননি পুলিশও। যার প্রমাণ বহন করছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা অভ্যন্তরে পাঁচ পুলিশ সদস্যের গণকবর।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সর্জিত হয়ে হামলা করে পাকবাহিনী। পরে স্বাধীনতার লক্ষ্যে হানাদার বাহিনীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালি জাতি। সারাদেশের সাথে যশোরও উত্তাল হয়ে উঠে। এরই মধ্যে যশোরের সর্বস্তরের মানুষের উপর চলতে থাকে হানাদার বাহিনীর বর্বর নির্যাতন। ৪ এপ্রিল তারা যশোর শহরে প্রবেশ করে নিরস্ত্র মানুষের উপর চালায় নারকীয় তা-ব। আর ৭ এপ্রিল কোতোয়ালি থানার মধ্যে ঢুকে কনস্টেবল আব্দুস সালাম খন্দকার, আকরামুজ্জামান, নরেন্দ্রনাথ ও আব্দুল হাকিম নামে চারজন কনস্টেবল এবং নায়েক আব্দুস সামাদকে নৃশংসভাবে হত্যা করে যশোর ক্যান্টেনমেন্ট থেকে আসা পাকসেনারা।
এ পাঁচ পুলিশ সদস্যের মধ্যে আব্দুল হাকিম রাজশাহীর মোংগাছি ও আব্দুস সামাদ চারাঘাট এলাকার বাসিন্দা। আব্দুস সালামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলা সদরের গোপীনাথপুর গ্রামে। যশোর সদর উপজেলার মানিকদিহি গ্রামের সন্তান আকরামুজ্জামান। আর নরেন্দ্রনাথের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চারুলটিমায়। এসব শহীদ পুলিশ সদস্যের লাশ গ্রামে পৌঁছে দেয়ার জন্য ওই সময় কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় কোতোয়ালি থানার তৎকালীন ওসি কাঞ্চন ঘোষাল স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় থানা চত্বরেই তাদের দাফন করেন।
তবে চরম অবহেলায় স্বাধীনতার ৩৯ বছর কাটে এই পাঁচ শহীদের গণকবরটি। সেই অবহেলার দিন শেষ হয়ে যায় ২০১০ সালে। সরকার এই পাঁচ শহীদদের স্মরণে কোতোয়ালি থানা চত্বরে নির্মাণ করে স্মৃতিস্তম্ভ। সেই থেকে এই স্মৃতিস্তম্ভে বিশেষ দিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকতা কর্মচারীরা।

শেয়ার