মণিরামপুরে গৃহবধূ হত্যার অভিযোগে স্বামী, শ্বশুর ও দেবরের নামে মামলা

Adalot mamla
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ মণিরামপুরে যৌতুক দাবিতে চম্পা রানী কর্মকার নামে এক গৃহবধূ হত্যার অভিযোগে স্বামী, শশুর ও দেবরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। রোববার নিহত গৃহবধূর মা সুমিত্রা নন্দী বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ অভিযোগ দাখিল করেন।
আসামিরা হলেন, মণিরামপুর উপজেলার পাচাকড়ি গ্রামের নিহতের স্বামী সঞ্জয় কর্মকতার, দেবর মিলন ও শশুর স্বপন কর্মকার।
জানা গেছে, তিন বছর আগের সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর গ্রামের মৃত সুভাষ নন্দীর মেয়ে চম্পা রানীকে বিয়ে করেন সঞ্জয় কর্মকার। বিয়ের সময় চম্পার পিতা তার সুখের কথা ভেবে জামাই সঞ্জয় কর্মকারকে নগদ এক লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ তিন লাখ টাকার মালামাল দেন। কিন্তু সঞ্জয়ের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের চাপের মুখে দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে চম্পা রানীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই টাকার দাবিতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে চম্পা রানীকে তার স্বামী সঞ্জয়, দেবর মিলন ও শশুর স্বপন কর্মকার এলোপাতাড়ি মারপিটের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে তার লাশটি গলায় শাড়ি পেচিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। প্রতিবেশি এক মহিলা বিষয়টি দেখতে পেরে নিহতের পিতার বাড়ি সংবাদ দেয়। নিহতের মা এসে লাশের গায়ে বিভিন্নস্থানে আঘাতের চি‎হ্ন দেখে মামলা করার জন্য চেষ্টা করেন। কিন্তু উপজেলার নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই গৌতম চন্দ্র মন্ডল নিহতের মা এবং বোন-ভগ্নিপতিদের উল্টো মামলা দেয়ার ভয় দেখিয়ে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। লাশের ময়নাতদন্তের পর ওই পুলিশ অফিসারের উপস্থিতিতে লাশের সৎকার করা হয়েছে।
এঘটনায় নিহতের মা সুমিত্র নন্দী বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দিয়েছেন। বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ আহমেদ অভিযোগের সত্যতা পেলে মণিরামপুর থানার ওসিকে মামলা রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এব্যাপারে এসআই গৌতম চন্দ্র মন্ডল জানান, লাশের ময়না তদন্ত রিপোর্ট এসেছে। সেখানে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সে কারনে ওই ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

শেয়ার