মংলায় ভবন ধস হাসপাতালেই ঘর সংসার!

Khulna medical

সমাজের কথা ডেস্ক॥

পাশে বসে আছেন স্ত্রীসহ অবুঝ দুই মেয়ে ও নিকটাত্মীয়রা। সবাইকে শোনাচ্ছেন সেদিনের দুর্ঘটনার সেই দূর্বিসহ বর্ণনা। অবাক হয়ে সবাই শুনছেন ভবন ধসের পরে তার অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়ার গল্প।

কিছুটা সুস্থ হয়ে হাসপাতালের মেঝেতে বসে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে এসব গল্প করছিলেন সেনাকল্যাণ সংস্থা পরিচালিত মংলার এলিফ্যান্ট ব্র্যান্ড সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে ভবন ধসে আহত শ্রমিক শফিকুল গাজী।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে গিয়ে এমন দৃশ্যের দেখা মেলে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শ্রমিক শফিকুল গাজী বাংলানিউজকে জানান, তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের কবুতরখালী। বর্তমানে তিনি থাকেন খুলনার মুসলমান পাড়ায়। আর কাজ করতেন মংলায়।

তিনি বলেন, তার দুটি মেয়ে আছে । বড় মেয়েটির নাম শাহনাজ (৮) আর ছোটটির নাম পাখি, বয়স (৩) মাস। হাসপাতালে ভর্তির পর স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে হাসপাতালেই থাকেন। আর তাকে দেখাশোনা, খাবার নিয়ে আসেন ছোট ভাই শাহ আলম ও শালিকা শিউলি। তারাও দিনের অধিকাংশ সময় হাসপাতালে থাকেন।

শফিকুলের মতো বাগমারার রবিউল গাজী, দাকোপের দেবাশীষ, কুদ্দুস হাওলাদার, মংলার হৃদয় প্রায় সবাই স্ত্রী ছেলে-মেয়ে মা-বাবাসহ আত্মীয় স্বজন নিয়ে অস্থায়ী সংসার পেতেছেন এ হাসপাতালে।

ভর্তিকৃত আহত এসব রোগীরা জানান, ভবন ধসের পরে তার অলৌকিকভাবে বেঁচে আসায় কেউ তাদের এখন আর ছেড়ে যেতে চাচ্ছে না।

শ্রমিকরা জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর তাদের কোনো আয় রোজগার নেই। অর্থের অভাবে তাদের পরিবারগুলো ঠিকমতো খাবার পায় না। তারপরও খেয়ে না খেয়ে স্ত্রী সন্তান নিকট আত্মীয়রা হাসপাতালেই থাকেন।

তারা অভিযোগ করেন, ফ্যাক্টরির পক্ষ থেকে ওষুধের ব্যবস্থা করা হলেও রোগীর খাবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে না। ফলে অর্ধাহারে-অনাহারে হাসপাতালের মেঝেতে তাদের দিন কাটছে।

ভবন ধসের পর এ হাসপাতালে ভর্তি ৩০ শ্রমিক বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ৫ হাজার ৮শত টাকা করে পেয়েছেন। এছাড়া খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে তাদের জন্য খাবার ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।

খুমেকের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস সামাদ বাংলানিউজকে বলেন, আহত শ্রমিকদের সার্জারি বিভাগের ১১ জন চিকিৎসক ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। চিকিৎসা সেবায় অনেকেই সুস্থ হয়ে উঠছেন।

বৃহষ্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে সেনাকল্যাণ সংস্থা পরিচালিত মংলার এলিফ্যান্ট ব্র্যান্ড সিমেন্ট ফ্যাক্টরির নির্মাণাধীন এ ভবনটি ধসে পড়ে। এতে ৭ শ্রমিক নিহত ও কমপক্ষে ৪৫ শ্রমিক আহত হয়।

শেয়ার