ভাটার টানে ভেসে যায় বাবার মরদেহ

taibunal

সমাজের কথা ডেস্ক॥

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাবা বিজয় দাসকে সিরাজ মাস্টারের সহযোগিতায় হত্যা করা হয়েছিল বলে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন সুকুমার দাস (৫৬)।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যে প্রসিকিউশনের সাক্ষী হিসেবে একথা বলেন তিনি। তার বাড়ি বাগেরহাটের রণজিৎপুরে।
সোমবার (১৬ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এ প্রসিকিউশনের ২৯তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন সুকুমার দাস।
সাক্ষ্যগ্রহণে ট্রাইব্যুনালকে সহযোগিতা করেন প্রসিকিউটর সাইয়েদুল হক সুমন।
সাক্ষ্যে সুকুমার দাস বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এক বৃহস্পতিবার আনুমানিক বেলা ১১/১২টার দিকে আসামি সিরাজ মাস্টার, রজব আলী ফকির, আকিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল রাজাকার রণজিৎপুর গ্রাম হামলা চালায়।
‘তারা গ্রামে বাড়িঘর লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগ করে এবং প্রায় ৪০/৫০জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। যাদের সবাই হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক ছিল,’ বলেন তিনি।

সাক্ষী সুকুমার দাস বলেন, বাবা-মাসহ আমার পরিবারের লোকজন ওইদিন রাতেই বাড়ি-ঘর ত্যাগ করে পার্শ্ববর্তী ঘনশ্যামপুর গ্রামে মামা সন্তোষের বাড়িতে আশ্রয় নিই। ১৯৭১ সালের ১৩ অক্টোবর ঘনশ্যামপুর স্কুলে অবস্থান নেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে রাজাকারদের গোলাগুলি হয়।
ওই দিন সকালে বাবা বিজয় দাসকে রাজাকাররা বাড়ি থেকে ধরে চুলকাঠি বাজারে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন তিনি।
সুকুমার দাস বলেন, বাবাকে যখন রাজাকাররা ধরে নিয়ে যাচ্ছিল, আমি পিছু পিছু যাই। রাজাকাররা আমাকে ভয় দেখিয়ে বাড়ি যেতে বলে। পরে ভয়ে বাড়ি ফিরে আসি আমি।
‘এরপর দিনগত রাতে আমার মামার এক বন্ধুর (যিনি পেশায় মুচি ছিলেন) কাছে জানতে পারি, আসামি সিরাজ মাস্টার, রাজাকার রজব আলী ফকিরসহ তাদের সহযোগীরা বাবাকে চুলকাঠি বাজারে কাঠের ব্রিজের কাছে মেরে ফেলেছে,’ সাক্ষ্যে বলেন সুকুমার।
তিনি বলেন, পরদিন সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবার লাশ খুঁজে পাইনি। তবে রক্ত দেখেছি। খালে পড়ে থাকা বাবার মরদেহ ভাটার টানে ভেসে গেছে।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সাক্ষী সুকুমার দাসকে জেরা করেন রাষ্ট্র নিয়োজিত আসামি পক্ষের আইনজীবী আবুল হাসান।
জেরা শেষে ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী বুধবার দিন ধার্য করেন।

শেয়ার