কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ জয় এশিয়ার দলগুলোর

Bangladesh team

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিরুদ্ধ পরিবেশ অথবা বাউন্সি উইকেট বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের ‘বৈরী’ কন্ডিশনে সহজেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে উপমহাদেশের চার দল।
শেষ আটে এশিয়ার চার দলের মধ্যে ভারত বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সাবেক চ্যাম্পিয়ন আর বাংলাদেশ এবারই প্রথম উঠেছে শেষ আটের মঞ্চে।

টানা ছয় ম্যাচ জিতে গ্রুপের সেরা হয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারত। উপমহাদেশের মন্থর উইকেটে ছড়ি ঘোরানো ভারতের অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডের বাউন্সি উইকেটে আধিপত্য করাটায় অবাক হননি রবি শাস্ত্রী।

উইজডেন ইন্ডিয়াকে ভারতের এই সাবেক ক্রিকেটার বলেন, “আমি একটুও বিস্মিত নই। এখন আমরা যেটার দিকে তাকিয়ে আছি, সেটা হলো ভালো কাজটা চালিযে যাওয়া। বেশি দূর চিন্তা না করে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।”

গত দুই বিশ্বকাপের রানার্সআপ শ্রীলঙ্কা চার জয় নিয়ে শেষ আটের মঞ্চে উঠেছে। বিরুদ্ধ কন্ডিশন জয় করে ওয়ানডের ইতিহাসে রেকর্ড টানা চারটি শতকের ইনিংস উপহার দেয়ার কীর্তি গড়েছেন দলটির তারকা ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা।

শ্রীলঙ্কা কোচ মারভার আতাপাতু তাই বর্তমান দলটির নকআউট পর্বের যাত্রা নিয়ে বেশ আশাবাদী। একটা দল হয়ে খেলার প্রশ্নে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের শ্রীলঙ্কাকে ‘সেরা’ বলেই মনে করেন আতাপাতু।

ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনাল অনিশ্চিত করে ফেললেও পাকিস্তান পরে ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেয়নি। পরের চার ম্যাচে টানা জিতে শেষ আটে জায়গা করে নেয় মিসবাহ-উল হকের দল। শঙ্কার মেঘটুকু সরে যাওয়ায় তারা এখন ১৯৯২ সালের পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন দেখছে।

মিসবাহদের ঘুরে দাঁড়ানো দেখে পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম বলন, “তারা ভালো খেলেছে এবং তারা পরের ধাপে যাওয়ার যোগ্য। নকআউট পর্বে অতীত ফর্ম আসলেই হিসেবে আসে না। সবকিছু নির্ভর করে নির্দিষ্ট দিতে আপনি কেমন খেলছেন।”

আফগানিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের পঞ্চম আসর শুরু করে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর শ্রীলঙ্কার কাছে হারে তারা। কিন্তু এরপর স্কটল্যান্ড ও বিশ্বকাপের বড় দল ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়ে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

অস্ট্রেলিয়ার পেস সহায়ক উইকেটে ইংল্যান্ড ও বিশ্বকাপের অন্য আয়োজক নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে তাদের পেসারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে টানা দুটি শতক তুলে নেন মাহমুদুল্লাহ। মাশরাফি-রুবেল হোসেনরাও আলো ছড়াচ্ছেন বল হাতে। অধিনায়ক মাশরাফি তাই আরো পাওয়ার প্রশ্নে দারুণ আশাবাদী।

“আমরা সাফল্যের জন্য ক্ষুধার্ত এবং আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমরা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারি।”

অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের কন্ডিশনে উপমহাদেশের দলগুলো যে এই সাফল্যকে আরো দূর টেনে নিয়ে যেতে পারে, সেটা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন ওয়াসিম আকরাম।

পাকিস্তানের এই সাবেক অধিনায়ক বলেন, “এশিয়ার একটি দলের এবার শিরোপা না জেতার তার কোনো কারণ দেখছি না আমি।”

শেয়ার