পাকিস্তান-আয়ারল্যান্ড ম্যাচে থাকছে উইন্ডিজও!

PAK PRE

সমাজের কথা ডেস্ক॥ জিতলে কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত, হারলেও শেষ আটে পা রাখার সুযোগ থাকবে দুই দলেরই-এমন এক প্রেক্ষাপট নিয়েই গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ড। এই ম্যাচে চোখ থাকবে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে থাকা পুল ‘বি’-এর আরেক দল ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও।
রোববার অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেইডে ওভালে পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায়।
গত পাঁচ ম্যাচে তিনটি করে জয় পাওয়া দুটি দলের পয়েন্ট ৬ করে। তবে নেট রানরেটে এগিয়ে থাকায় তালিকায় তৃতীয় স্থানে পাকিস্তান আর চতুর্থ স্থানে রয়েছে আয়ারল্যান্ড।
অ্যাডিলেইডে জয়ী দল কোনো হিসাব ছাড়াই শেষ আটে ঠাঁই পাবে। তবে হারলেও সুযোগ থাকবে উভয় দলের। সেক্ষেত্রে পরাজিত দলকে তাকিয়ে থাকতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ম্যাচের দিকে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারলে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে পুল ‘বি’ থেকে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠবে পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ড। নিউ জিল্যান্ডের নেপিয়ারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-আমিরাত ম্যাচে বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টিতে ম্যাচটি পন্ড হলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করবে দুই দল। উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষেত্রে পাকিস্তান-আয়ারল্যান্ড ম্যাচের ফল যাই হোক, এই দুটি দলই উঠবে শেষ আটে।
পাকিস্তান হারলে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতলে এই দুটি দলেরই কোয়ার্টার-ফাইনাল ভাগ্য নির্ভর করবে তাদের নেট রানরেটের ওপর। কারণ দুটি দলের পয়েন্টই তখন ৬ করে হবে।
আপাতত ৫ ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট পাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের নেট রানরেট -০.৫১১। এদিক থেকে এগিয়ে আছে পাকিস্তান, তাদের নেট রানরেট এই মুহূর্তে -০.১৯৪। এদিক থেকে সবার চেয়ে পিছিয়ে থাকা আইরিশদের নেট রানরেট -১.০১৪। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ অন্য ম্যাচে জিতে গেলে তাদের জয় ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

নেট রানরেটের হিসাব নয়, জয়ের লক্ষ্য নিয়ে অ্যাডিলেইডে নামবে পাকিস্তান আর আয়ারল্যান্ড। শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ-উল হকের মতো আয়ারল্যান্ডের এড জয়েসও একই লক্ষ্যের কথা জানান।

পেসাররা দুর্দান্ত ফর্মে আছেন বলে মিসবাহ তার বোলিং আক্রমণ নিয়ে অনেকটাই নির্ভার। তবে ব্যাটিং নিয়ে চিন্তিত তিনি। তবে আয়ারল্যান্ড ম্যাচে জয়ের কথাই ভাবছেন তিনি।

“আমরা আগামীকালের (রোববার) ম্যাচের দিকে দৃষ্টি দিচ্ছি; এটা আমাদের জন্য ‘অবশ্যই জিততে হবে’ ম্যাচ এবং যে জন্য আমরা সামনের দিকে তাকিয়ে আছি।”

২০০৭ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় করেছিল আয়ারল্যান্ড। এবারও প্রায় একই প্রেক্ষাপট। তবে প্রথমবারের মতো আয়ারল্যান্ডের কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলার সুযোগ থাকায় এ ম্যাচটিকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন দলটির ব্যাটসম্যান এড জয়েস।

“বিশ্বকাপে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকার বিষয়টি ম্যাচটিকে আমাদের খেলা সব ম্যাচের চেয়ে সবচেয়ে বড় করে দিয়েছে।”

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ইমরান খানের পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত শিরোপা নিয়ে দেশে ফিরেছিল। বিশ্বকাপের এ আসরে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারের পর টানা তিন ম্যাচ জিতে ঘুরে দাঁড়ানো মিসবাহ অবশ্য মাটিতে পা রাখছেন। আয়ারল্যান্ড ম্যাচে জয়ের জন্য ইতিহাস না ঘেটে সতীর্থদের ভালো খেলার দিকেই মনোযোগ দিতে বলেন তিনি।

শেয়ার