ধোনি-রায়নার ব্যাটে ভারতের দারুণ জয়

dhoni
সমাজের কথা ডেস্ক॥ টানা ষষ্ঠ জয় দিয়ে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে ভারত। ব্রেন্ডন টেইলরের শতকে তাদের বড় লক্ষ্যই দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। শুরুতে উইকেট নিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের চাপেও ফেলেছিল তারা; কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। একবার জীবন পাওয়া সুরেশ রায়না ও মহেন্দ্র সিং ধোনির দৃঢ়তায় জিম্বাবুয়েকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে শিরোপাধারীরা।
শন উইলিয়ামস ও ক্রেইগ আরভিনের সঙ্গে দুটি ভালো জুটি উপহার দিয়ে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিয়েছিলেন টেইলর। তার টানা দ্বিতীয় শতকে অলআউট হওয়ার আগে ২৮৭ রান করে জিম্বাবুয়ে। তাদের ইনিংস স্থায়ী হয় ৪৮.৫ ওভার।

একশ’ রানের আগেই প্রথম চার ব্যাটসম্যানের বিদায়ে এক সময় চাপে পড়ে ভারত। তবে রায়না ও ধোনির দারুণ ব্যাটিংয়ে ৮ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

আগামী বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে কোয়ার্টার-ফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে ভারত।

২৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্রুত বিদায় নেন ভারতের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। সপ্তম ওভারে জোড়া আঘাতে রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ানকে ফিরিয়ে দেন টিনাশে পানিয়াঙ্গারা।

উইকেটে থিতু হয়ে বিরাট কোহলি ও অজিঙ্কা রাহানের বিদায়ে অস্বস্তিতে পড়ে ভারত। ৯২ রানে প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে হারনো শিরোপাধারীরা প্রতিরোধ গড়ে রায়না-ধোনির ব্যাটে।

শুরুতে দেখেশুনে খেললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেন রায়না-ধোনি। অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেটে ১৫৬ বলে তাদের ১৯৬ রানের জুটি দলকে এবারের আসরের টানা ষষ্ঠ জয় এনে দেয়।

ব্যাটিং পাওয়ার প্লের (৩৬ থেকে ৪০) আগে রায়নাকে বিদায় করার দারুণ একটি সুযোগ এসেছিল জিম্বাবুয়ের সামনে। সিকান্দার রাজার করা ৩৫তম ওভারের শেষ বলে শর্ট ফাইন লেগে হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে ক্যাচ দিয়েছিলেন রায়না। কিন্তু বলটি তালুবন্দি করতে পারেননি মাসাকাদজা।

সে সময় ভারতের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১৫৭ রান। রায়না ব্যাট করছিলেন ৪৭ রানে। এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ফিরে গেলে খেলার চিত্রটাই হয়তো বদলে যেতে পারতো।

জীবন পেয়ে সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি ম্যাচ সেরা রায়না। পঞ্চম ওয়ানডে শতকে পৌঁছান তিনি। ১১০ রানে অপরাজিত থাকা এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানের ১০৪ বলের ইনিংসটি ৯টি চার ও ৪টি ছক্কায় গড়া।

অধিনায়ক ধোনি অপরাজিত থাকেন ৮৫ রানে। ৭৬ বলে খেলা তার অধিনায়কোচিত ইনিংসটিতে রয়েছে ৮টি চার ও ২টি ছক্কা।

শেষ দিকে এলোমেলো বল করে ভারতের দুই ব্যাটসম্যানের জন্য কাজটা সহজ করে দেন জিম্বাবুয়ের বোলাররা। শুরুতে ভালো বল করা পেসাররাও শেষ দিকে আর ধোনি-রায়নাদের অস্বস্তিতে ফেলতে পারেননি।

শনিবার অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি জিম্বাবুয়ের। ১১ ওভারে ৩৩ রান যোগ করতেই প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে হারায় তারা।

ভারতের তিন পেসার এই সময়ে নেন একটি করে উইকেট। তাদের দারুণ বোলিংয়ে প্রথম ১৬ ওভারে ৪৬ রানের বেশি করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে।

চতুর্থ উইকেটে শন উইলিয়ামসের সঙ্গে ৯৩ রানের জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেন টেইলর। রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে উইলিয়ামসের বিদায়ে ভাঙে ১৭.৩ ওভার স্থায়ী জুটি। ৫৭ বলে খেলা উইলিয়ামসের ৫০ রানের ইনিংসটি গড়া তিনটি করে ছক্কা ও চারে।

পঞ্চম উইকেটে ক্রেইগ আরভিনের সঙ্গে ১০৯ রানের আরেকটি ভালো জুটি উপহার দেন টেইলর। এই জুটি গড়ার পথে ক্যারিয়ারের অষ্টম শতকে পৌঁছান তিনি। অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলকে পেছনে ফেলে ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের সবচেয়ে বেশি শতকের (৮) রেকর্ড নিজের করে নেন তিনি।

শুরুতে সতর্ক ব্যাটিং করে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন তিনি। উইলিয়ামসের সঙ্গে ৯৩ রানের জুটিতে তার অবদান ৪২ রান। উইলিয়ামসের বিদায়ের পর রানের গতি বাড়ানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক।

প্রথম ৮১ বলে ৬৮ রান করেন ছন্দে থাকা টেইলর। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান শেষ ২৯ বলে সংগ্রহ করেন ৭০ রান। যার ৫৮ রানই আসে চার-ছক্কা থেকে।

আরভিনের সঙ্গে ৮০ বল স্থায়ী জুটিতে টেইলরের অবদান ৮৪ রান। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে এই সময়ে তিনশ’ রানের সংগ্রহ গড়ার পথেই ছিল জিম্বাবুয়ে।

মোহিত শর্মার বলে শিখর ধাওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় টেইলরের ১৩৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটি। তার ১১০ বলের ইনিংসটি ১৫টি চার ও ৫টি ছক্কা সমৃদ্ধ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচেই ১২১ রানের দারুণ একটি ইনিংস খেলেছিলেন টেইলর।

টেইলরের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকেননি আরভিনও। এরপর সিকান্দার রাজা ছাড়া আর কেউ ভালো করতে না পারায় সংগ্রহ আরও বড় হয়নি জিম্বাবুয়ের। মাত্র ১১ রান যোগ করতে শেষ চার উইকেট হারায় তারা।
ভারতের তিন পেসার উমেশ যাদব, মোহাম্মদ সামি ও মোহিত তিনটি করে উইকেট নেন।

শেয়ার