আইএস ঘনিষ্ঠ ১৫ জঙ্গির খোঁজে গোয়েন্দারা

obijit
সমাজের কথা ডেস্ক॥

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বাংলাদেশ শাখার সমন্বয়ক সাখাওয়াতুল কবির ওরফে কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী অন্তত ১৫ জনকে খুঁজছে গোয়েন্দারা।

এই ১৫ জন আইএসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার আগে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সঙ্গে জড়িত ছিলো। এদের মধ্যে দু’জন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। একসময় এই ১৫ জঙ্গি কবির ও আইএসের আরেক নেতা আনোয়ার হোসেন বাতেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা শুরু করেন।

তারা আটক হলে চাঞ্চল্যকর অভিজিৎ রায় হত্যাকা-ের তদন্তেরও অগ্রগতি হতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দা সদস্যরা। সাখাওয়াতুল কবির বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি আইএস বাংলাদেশের সমন্বয়ক কবির, আনোয়ার হোসেন বাতেন, নজরুল ইসলাম ও রবিউল ইসলামকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাদের কয়েক দফায় রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও মোবাইল ফোনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া ১৫ জনের একটি তালিকা এখন গোয়েন্দাদের হাতে। সেই তালিকা ধরেই চলছে অভিযান।

বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ হত্যায় যে কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের দিকে গোয়েন্দাদের সন্দেহের তীর রয়েছে, তাদের মধ্যে আইএস অন্যতম। আইএসও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা কিংবা ব্যক্তির ওপর হামলা করে বিশ্বমিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টায় রয়েছে।

বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপকালে গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, অভিজিৎকে যে উগ্রপন্থিরাই হত্যা করেছে, তা নিশ্চিত। ফেসবুকে তাকে হত্যার হুমকিদাতা শফিউর রহমান ফারাবীকে রিমান্ডে এনে তথ্যের ভিত্তিতে ১০ জনের মতো একটি তালিকা তৈরি করে তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

পাশাপাশি তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিম, জেএমবি ও আইএস জড়িত থাকতে পারে। সুতরাং আমরা এ সংগঠনগুলোর জঙ্গি সদস্যদের আটক করতে অভিযান পরিচালনা করছি।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আইএসের প্রধান সাখাওয়াতুল কবিরসহ যে চারজনকে আটক করা হয়, এর মধ্যে কবির ও আনোয়ারের রিমান্ডে দেওয়া তথ্য এবং তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রক্ষাকারী অন্তত ১৫ জনের তালিকা করে গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীও রয়েছেন। বর্তমানে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। একসময় এই ১৫ জন জেএমবির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মাহফুজুল আলম রাসেল বাংলানিউজকে বলেন, আইএস বাংলাদেশের সমন্বয়ক কবির ও আনোয়ারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা সন্দেহভাজনদের খুঁজছি। রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় আমাদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

শেয়ার