মণিরামপুরে পোশাক আটকের নামে চাঁদা দাবি ও পণ্য আত্মসাত॥ কোস্টগার্ডের এক অফিসারসহ ১০ জনের নামে অভিযোগ

attoshat
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের মণিরামপুরে আমদানি করা পোশাক আটকের নামে চাঁদা দাবি ও পণ্য আত্মসাত ঘটনায় কোস্টগার্ডের এক অফিসারসহ ১০ জনের নামে আদালতে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার অভয়নগরের নওয়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী মেসার্স আকর্ষণ বস্ত্রালয়ের সত্ত্বাধিকারী লিটু বেগম এ অভিযোগ দেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মারুফ আহমেদ ঘটনার সত্যতা পেলে এজাহার নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগে পেটি অফিসার এসএম রহমানের নাম উল্লেখ করা হলেও অপর ৯ জনকে অজ্ঞাতনামা বলা হয়েছে।
জানাগেছে, নওয়াপাড়া বাজারের মেসার্স আকর্ষণ বস্ত্রালয়ের সত্ত্বাধিকারী লিটু বেগম দীর্ঘদিনধরে ভারত থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করেন। গত ৭ জানুয়ারি ভারতের মেসার্স আল ফালাহ মার্চেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড থেকে বিল অফ এন্ট্রি মূলে ৯ হাজার ৫’শ মার্কিন ডলার মূল্যের ১ হাজার শাড়ি, পাঁচশ থ্রি পিচ ও এক হাজার কেজি ফেব্রিক্স (থান) কাপড় আমদানি করেন। আকর্ষণ বস্ত্রালয়ের ম্যানেজার আল আমীন গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সকালে ১২ লাখ টাকা মূল্যের ৫’শ থ্রি পিস, ২০ বান্ডিল ফেব্রিক্স (থান) কাপড় ও ৫’শ পিস শাড়ি একটি নসিমনে নিয়ে সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা বাজারের আপন ফেব্রিক্সের মালিক সোহরাব হোসেনের কাছে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মণিরামপুর উপজেলার স্বরুপপুর কুমারঘাটা বাজারের পাশে শ্মশানের কাছে পৌঁছানো মাত্র খুলনার রুপসা অফিসের কোস্টগার্ডের পেটি অফিসার এসএম রহমানের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা আরো ৯ জন লোক আসে। তারা নসিমন থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে। পরে তারা ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ম্যানেজার আল আমীনকে মারপিট করে তার পকেটে থাকা ৪০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। তাছাড়া আল আমীনের কাছে থাকা ওই পণ্যের বৈধ কাগজপত্র তারা ছিঁড়ে ফেলে। এসময় নসিমনে থাকা পণ্যগুলো অবৈধ বলে তারা নিয়ে যায়। কিন্তু পরদিন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারলে তা ফেরৎ দেয়ার কথা বলে। পরদিন কোস্টগার্ডের অফিসে যোগাযোগ করলে পূর্বের দাবিকৃত ২ লাখ টাকার বাকি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করে। এ টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে আটক করে মামলা দেয়ার ভয় দেখানো হয়। এরপর আল আমীনের কাছে থাকা আরো ১০ হাজার টাকা তারা নিয়ে নেয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি খুলনার কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসে যোগাযোগ করলে জানতে পারে যে আল আমীনের কাছ থেকে জব্দ করা পণ্যের সিংহ ভাগই কোস্টগার্ডের লোকজন আত্মসাত করেছে। তারা মাত্র ২৬৩ থ্রি পিস ও ৬৮ কেজি থান কাপড় জমা দিয়ে মামলা করেছে।

শেয়ার