মংলায় ছাদ ধসে নিহত ৬, উকণ্ঠায় স্বজনরা

MONGLA1
এম কামরুজ্জামান, বাগেরহাট ॥ মংলায় সেনা কল্যাণ সংস্থার এলিফ্যান্ট ব্র্যান্ড সিমেন্ট ফ্যাক্টরির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসের ঘটনায় ৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ভবনে দেড় শতাধিক শ্রমিক কাজ করছিল বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে ৩০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও , কোস্টগার্ড, সেনাবাহিনী উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। তবে ধসে যাওয়া ওই ছাদের নিচে ঠিক কতজন শ্রমিক আটকা রয়েছে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেনা।
নির্মাণ সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও স্থানীয়রা বলছে, এখনও শতাধিক শ্রমিক ভেতরে আটকা রয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনাস্থলকে ঘিরে স্বজনরা ভিড় করছে। অনেকে আবার আটকে পড়াদের জন্য পানি, শুকনো খাবার নিয়ে অপেক্ষা করছে। তাদের সবার মধ্যে অজানা শঙ্কা কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর পৌনে ১টার দিকে ওই ভবনের ছাদ ঢালাই দেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে তিনজনের নাম জানা গেছে। এরা হলেন-আমির আকন্দি, মাহাফুজ হাওলাদার ও আল-আমিন। এদের সবার বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায়। বাকীদের নাপপরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। এরমধ্যে পাঁচজনের লাশ বন্দর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মংলা বন্দর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. এনামুল কবির ও ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা জয়নাল আবদীন তিতাস জানান, এখন পর্যন্ত ৬ জন মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। উদ্ধার কাজ চলছে।
ডা. এনামুল কবির জানান, বন্দর হাসপাতালে ৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। এখান থেকে ১২ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে আরো কয়েকজনকে সরাসরি খুমেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বাগেরেহাটের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম জানান, উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস যোগ দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, যেহেতু রাত হয়ে আসছে সেজন্য ঘটনাস্থলে প্রচুর আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেন উদ্ধারকাজে কোনো সমস্যা না হয়।
এছাড়া হতাহতদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ অন্যান্য হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে কোস্টগার্ডের পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার মেহেদি মাসুদ জানান, ধসে যাওয়া ভবনটি প্রায় পাঁচ তলার সমান উঁচু ছিল। দুপুরে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। এ সময় হঠাৎ ভবনটি ধসে পড়ে।

মংলা থানার এএসআই উত্তম চ্যাটার্জি জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে ভবনটির চার তলার নির্মাণ কাজ চলার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। অল্প সময়ের মধ্যে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
গোলাম মোস্তফা নামে আহত এক শ্রমিক জানান, সকালে তারা ৫০/৬০ জন শ্রমিক নির্মাণাধীন ভবনের চারতলার ছাদে কাজ করছিলেন। বেশকিছু শ্রমিক ভবনের নিচেও ছিলেন। দুপুরের দিকে হঠাৎ করে ছাদ ধসে পড়ে।
মংলা থানার এএসআই উত্তম বলেন, “আহত অনেককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলেও অনেকে আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”

সেনা কল্যাণ সংস্থার মালিকানায় ১৯৯৪ সালে পশুর নদীর তীরে প্রতিষ্ঠিত মংলা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি এলিফ্যান্ট ব্র্যান্ড নামে সিমেন্ট বাজারজাত করে থাকে।

শেয়ার