আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ম্যাচে নির্ভার বাংলাদেশ

Bangladesh
সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিশ্বকাপের ম্যাচ, অথচ চাপমুক্ত অবস্থায় আছেন মাশরাফি-সাকিবরা! ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসরে এমনটা হবে কে ভেবেছিল? এক ম্যাচ আগেই কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচটি নিয়ে তাই ভাবনায় নেই বাংলাদেশ দল।
শুক্রবার হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে গ্রুপ পর্বে নিউ জিল্যান্ড – বাংলাদেশ ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায়।
নিজেদের প্রথম পাঁচ ম্যাচে তিনটি জয় পায় বাংলাদেশ। আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে খেলা নিশ্চিত করে তারা। শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যায় বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাশরাফিদের অন্য ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপের একমাত্র অপরাজিত দল নিউ জিল্যান্ড। টানা পাঁচ ম্যাচ জিতেছে তারা।

দুই সহযোগী দেশ আফগানিস্তান ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ভীষণ চাপে ছিল বাংলাদেশ। কোয়ার্টার-ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে এই দুই ম্যাচে জয় ছাড়া আর কিছু ভাবছিল না তারা।

শেষ আটে যেতে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, নিউ জিল্যান্ডের মধ্যে যে কোনো একটা দলকে হারাতেই হত বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে একটু চাপেই ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজারা।

কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫ রানের জয় নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায় বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। শেষ আটের কঠিন পরীক্ষায় নামার আগে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিটদের বিপক্ষে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগ তাদের সামনে।

আগামী ১৯ মার্চ মেলবোর্নে দ্বিতীয় কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ। মাশরাফিদের প্রতিপক্ষ এখনো ঠিক হয়নি।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সুখস্মৃতি সঙ্গে নিয়েই নামবে বাংলাদেশ। শেষ আট ম্যাচে এই দলটির কাছে হারেনি তারা। এর সাতটিতে জেতে বাংলাদেশ, অন্য ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়।

মুখে না বললেও প্রতিশোধ নিতে মুখিয়ে থাকবে নিউ জিল্যান্ড। ২০১০ সালের ৪-০ ও ২০১৩ সালের ৩-০ ব্যবধানে দুই ‘বাংলাওয়াশ’ এর প্রতিশোধ এক ম্যাচেই নিতে চাইবে তারা।

সেডন পার্কের উইকেটে স্পিনাররা কিছুটা সুবিধা পেয়ে থাকেন। সেই সুবিধা নিয়ে নিউ জিল্যান্ডের অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে ঠেকাতে চায় বাংলাদেশ। দলের স্পিন বোলিং কোচ রুয়ান কালপাগে সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে এই ম্যাচেও আরাফাত সানিরই খেলার সম্ভাবনা বেশি।

অবশ্য বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না ম্যাককালাম। তাকে দ্রুত থামানোর হুমকিতে চিন্তিত না হওয়ার কথাই জানান তিনি। তিনি বলেন, “আমি মনে করছি, এটা কথার কথা, তাই নয় কী? আপনি তো এসব কথায় বেশি চিন্তিত হতে পারেন না। খেলাটি ব্যাট আর বলের এবং আগামীকাল (শুক্রবার) আমরা দেখবো কী হয়।”

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সফল না হলেও আরেকটা সুযোগ পেতে পারেন ইমরুল কায়েস। সেক্ষেত্রে বাইরেই থাকতে হবে নাসির হোসেনকে।

অধিনায়ক মাশরাফির পায়ের পেছনের পেশির ব্যথা, গলা ব্যথা আর ধীর গতির বল করে নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা পরিবর্তন আনতে পারে বাংলাদেশ দলে। দেশ সেরা এই পেসারের জায়গায় দলে ফিরতে পারেন শফিউল ইসলাম। মাশরাফি না খেললে দলকে নেতৃত্ব দেবেন সহ-অধিনায়ক সাকিব।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫ রানে জেতা ম্যাচে ধীর গতির বোলিং করায় জরিমানা দিতে হয় বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের। এক বছরের মধ্যে মাশরাফির অধিনায়কত্বে আরেকটি ওয়ানডেতে দল ধীর গতিতে বল করলে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হবেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।

ম্যাককালাম, কেন উইলিয়ামসন, মার্টিন গাপটিল, কোরি অ্যান্ডারসন, লুক রনকির উপস্থিতিতে নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ খুবই শক্তিশালী।

তবে এই ব্যাটিং লাইনআপকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সামর্থ্য বাংলাদেশের বোলারদের রয়েছে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষেই হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব রয়েছে রুবেল হোসেনের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার উইকেট নিয়ে এই পেসার দারুণ ছন্দেই আছেন।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মুশফিক, সাকিব, সাব্বির রহমানদের বড় একটা পরীক্ষাই হবে ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি আর ড্যানিয়েল ভেটোরিদের বিপক্ষে। দারুণ ছন্দে আছেন নিউ জিল্যান্ডের এই তিন বোলার।

আগের পাঁচ ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে অলআউট করে নিউ জিল্যান্ড। নতুন বলে বোল্ট-সাউদি আর মাঝের ওভারগুলোতে ভেটোরির ঘূর্ণিতে জাদু বাংলাদেশের ব্যাটিং সামর্থ্যের পরীক্ষা নেবে। পেস আর স্পিনের এমন যুগলবন্দির বিপক্ষে অল-আউট না হওয়াটাও কিন্তু কোয়ার্টার-ফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বাংলাদেশের।

শেয়ার