যশোরে ১৪ দলের পদযাত্রা ও জনসভায় সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহবান ॥ খালেদা জিয়া মানুষের বাঁচার অধিকার কেড়ে নিয়েছেন-মাহাবুব-উল আলম হানিফ ॥ দুর্নীতির মামলা থেকে রক্ষা পেতেই টানা এই হরতাল অবরোধ-বিএম মোজাম্মেল

sova

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে ১৪ দলের পদযাত্রা ও জনসভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার নামে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষের বাঁচার অধিকার কেড়ে নিয়েছেন।
তিনি বিএনপি নেত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, ভোটের অধিকারের কথা যদি বলবেন; তাহলে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ভোট কেন্দ্র কেন জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। ভোট দিতে যাওয়া দেড় শতাধিক মানুষকে কেন মেরে ফেলেছিলেন।
বুধবার বিকালে যশোরে পদযাত্রা শেষে শহরের চিত্রা মোড়ে এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১৪ দলীয় জোটের জেলা সমন্বয়ক জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের সভাপতিত্বে মাহবুব-উল আলম বলেন, বাংলাদেশ যাতে এগিয়ে যেতে না পারে এজন্য পাকিস্তানের এজেন্ট খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। এরই অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নাতি সজীয় ওয়াজেদ জয়কে বিএনপির কর্মীরা আমেরিকায় অবস্থানকালে অপহরণ করার ষড়যন্ত্র করা হয়। সেদেশের আদালত ষড়যন্ত্রকারী বিএনপির কর্মীদের সাজা দিয়ে সেটা প্রমাণ করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে হানিফ বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করে ক্ষমতায় গেলে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, তাকে ষড়যন্ত্র করে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে হেরে গেলে একই কথা বলেছিলো। তাই তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু নয়। যদি তাই হবে সেসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে (খালেদা) আলোচনার জন্য ফোন করেছিলেন। কিন্তু তিনি আলোচনায় আসেননি। জামায়াত নির্বাচনে আসতে পারবে না জেনে পাকিস্তানের নির্দেশে বিএনপি নির্বাচনে আসেনি। হানিফ আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধী কসাই কাদের মোল্ল্যার ফাঁসি হলে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে শোক প্রস্তাব করা হয়েছিলো। গোলাম আযম মারা গেলে পাকিস্তানে গায়েবানা জানাজা হয়। তাই পাকিস্তানের দোসরদের কোন রক্ষা নেই।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পদযাত্রা ও জনসভার সমন্বয়ক কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি। তিনি বলেন, পেট্রোল বোমা ও সন্ত্রাস করে রাজনীতি করা যায় না। যারা রাজনীতি করে না তাদের পেট্রোল বোমা মেরে হত্যা করা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার নির্দেশে বিএনপি-জামায়াত চোরাগোপ্তা বোমা হামলা করে নিরীহ মানুষ মারছে। টানা হরতাল অবরোধ দিয়ে দেশের ভবিষ্যত হিসেবে গড়ে উঠা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে দেয়া হচ্ছে না। এর পেছনে খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্য পরিস্কার। তিনি দুর্নীতি মামলা থেকে রেহায় পেতে আদালতে না যেতে এসব সন্ত্রাসে লিপ্ত রয়েছেন। বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, এতিমদের টাকা আত্মসাত করার কারণে আপনার (খালেদা জিয়া) নামে ১/১১ এর সময়ে মামলা হয়েছিলো। সেই মামলা থেকে বাঁচতে জনগণের রক্তের উপর দিয়ে ক্ষমতায় যেতে যাচ্ছেন। তাই হরতাল-অবরোধ ডেকেছেন। তিনি হরতাল অবরোধসহ বিএনপি জামায়াতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানান। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এনামুল হক, জাসদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রবিউল আলম, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহম্মদ, জেপির ভাইস চেয়ারম্যান শরীফ সফিকুল হামিদ চন্দন, বাসদের মাহবুবুর রহমান, সাম্যবাদী দলের কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাড. বীরেন সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ সম্পাদক আব্দুল মজিদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আলী রায়হান।
এদিকে, পদযাত্রা ও জনসভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিত হওয়ায় খবর জানতে পেরে দুপুর থেকেই ১৪ দলের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হন। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে কর্মীরা যোগদেন সমাবেশে। কর্মীদের এ স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ সমাবেশস্থল মহাসমাবেশে রূপ নেয়। চিত্রা মোড়ে দাঁড়ানোর জায়গা না পেয়ে লোকজন দড়াটানা, মাইকপট্টি, চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থান নেন। সেখানে দাঁড়িয়ে মাইকে বক্তব্য শোনেন নেতাদের। অনেককে দলবেঁধে ভবনের ছাদে উঠে বক্তব্য শুনতে দেখা যায়।

শেয়ার