আমিরাতের বিপক্ষে দ. আফ্রিকার ‘পরীক্ষার’ ম্যাচ

PREVIEW
সমাজের কথা ডেস্ক॥ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি খেলতে নামার আগে কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা দলে চাপ বলতে কিছু নেই। ম্যাচটি তাই অন্যতম ‘ফেভারিট’ দলটির জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার একটা সুযোগ।
বৃহস্পতিবার নিউ জিল্যান্ডের ওয়েলিংটন স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায়। দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের জন্য ‘অনুশীলনের’ এই ম্যাচে টস জিতে বোলিং বেছে নিতে পারলেই খুশি হবে। কারণ, বোলিং নিয়ে আরও কিছু কাজ করার বাকি আছে তাদের। বিশেষ করে ইনিংসের শেষ দিকে লাইন ও লেন্থ ঠিক রেখে উঠতে পারছে না তাদের বোলাররা।
ম্যাচের আগের দিন বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে বোলারদের এই জায়গাটা ঠিক করে নেওয়ার পরামর্শও দেন ডি ভিলিয়ার্স। এ ছাড়া বিকল্প দু-একজন বোলারকেও ম্যাচ অনুশীলন করিয়ে নিতে চান তিনি।
“বোলিংয়ের ক্ষেত্রে, দু-একজন ‘পার্ট-টাইমার’ বোলারকে কিছু বাড়তি ওভার করানো দারুণ হবে। কারণ নকআউটে এটা আমাদের প্রয়োজন হতে পারে।”
আগে ব্যাটিং পেলেও কিছু বিষয় ঠিক করে নেওয়ার আছে দক্ষিণ আফ্রিকার। বিশেষ করে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি কক এখনো বিশ্বকাপে তার প্রতিভার ঝলক দেখাতে পারেননি। আর রাইলি রুশো ও ফারহান বেহারদিনের মধ্যে কে নকআউটে সুযোগ পেতে পারেন, সেটাও দেখে নেওয়ার ব্যাপার আছে।

“কয়েকজনের ফর্মে ফেরা প্রয়োজন। আমি কিছু খেলোয়াড়কে রান করতে দেখতে চাইব।”

অনেক কিছু ঠিক করে নেওয়া, এক কথায় কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রস্তুতি সেরে নেওয়ার এই ম্যাচে আবার গা ভাসিয়েও দিতে চাইছেন না ডি ভিলিয়ার্স। বড় দুই প্রতিপক্ষের কাছে উড়ে যাওয়ার আগে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে ভালো ক্রিকেট খেলেছে আমিরাত।

দেশটির ব্যাটিং লাইনআপ দেখিয়েছে, ভালো বোলিং আক্রমণের বিপক্ষেও ব্যাটিং করার সামর্থ্য আছে তাদের। আক্রমণাত্মক না হয়েও গোছানো ব্যাটিং করার উদাহরণ আগের ম্যাচগুলোয় রেখেছে আমিরাতের ব্যাটসম্যানরা।

দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বড় সমস্যার নাম চাপের মধ্যে রান তাড়া করার দুর্বলতা। এই পরিস্থিতিতে একজন বাড়তি ব্যাটসম্যান, নাকি একজন বোলার বেশি খেলাবেন; এ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে তারা।

আমিরাতের ব্যাটিং লাইনআপের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম শাইমান আনোয়ার। প্রত্যেকটি দলের চারটি করে ম্যাচ শেষে এই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের আগেও তার ওপরই আস্থা রাখছেন অধিনায়ক মোহাম্মদ তৌকির।

“(আনোয়ারের) আবার শীর্ষে ওঠার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।”

আমিরাতের ব্যাটিং লাইনআপটা লড়াই করার মতো হলেও বোলিং নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে তাদের। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি একবারই হয়েছিল আরব দেশটি। সেবার হেরে যাওয়া ম্যাচে তাদের বোলারদের করুণ হাল হয়েছিল।

১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে খেলা সেই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান গ্যারি কারস্টেন ক্যারিয়ার সেরা ১৮৮ রান করেছিলেন। ক্রিস গেইল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৫ রান করার আগে এটাই ছিল বিশ্বকাপের এক ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

এবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের আগে অবশ্য আত্মবিশ্বাসী আমিরাত। প্রথম চারটি ম্যাচ হেরে গেলেও বিশ্বকাপে বিশেষ ছাপ রেখে যাওয়ার প্রত্যয় এখনো আছে তৌকিরের।

“আসছে দুই ম্যাচে আমরা ভালো কিছু করতে চাই। আমাদের ভালো কিছু ক্রিকেটার আছে, তারা নিজেদের প্রমাণ করতে চাইবে।”

শেয়ার